তাজমহল : সত্যের এক বিরল সমাধি সৌধ

সত্যকে কবরে দেওয়া হয়েছে তাজমহল বলে তথাকথিত এই সৌধে। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের এক আশ্চর্য এই তাজমহল মোগল সম্রাট শাহজাহান তৈরি করেছিল বলে বলা হয়। এখানে নাকি তার প্রিয় বেগম মমতাজ মহল সমাধিস্থ। 
এমন ইতিহাস বিকৃতি বোধহয় ভারতবর্ষেই সম্ভব। এমন এক নিষ্ঠুর ছলনা যার এখনো পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। যার স্থাপত্য, ভাস্কর্য কোনোটাই ইসলামিক রীতি অনুযায়ী হয়নি। আমি নিচে বিশ্লেষণ করেছি। কিছু ফটো দিয়েছি রেফারেন্স হিসাবে। 
ঐতিহাসিক পুরুষোত্তম নাগেশ ওক যিনি প্রফেসর পি এন ওক নামে পরিচিত, একটি গবেষণা মূলক বই লেখেন তাজমহল ও তার ইতিহাস সংক্রান্ত। বই এর নাম তাজমহল: দ্য ট্রু স্টরি । পৃথিবীর বিভিন্ন ঐতিহাসিকরা তাঁর থিয়োরী মেনে নিয়েছেন। 
বিবিসি নিউজ ও তাঁর কথা মেনে নিয়েছে। মেনে নেবার কারণ হলো অকাট্য ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে ওকের বইতে। অথচ ভারত সরকার মেনে নেয়নি এবং অন্য কাউকে গবেষণার অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অসংখ্য সীল করা ঘর যদি আজ খুলে 
দেওয়া হয় তাজমহলের, তা হলে কোনো পুরাতত্ত্ববিদ বা ঐতিহাসিক লাগবে না, সাধারণ শিশুও বলে দেবে যে তাজমহল মুসলিম আমলে নির্মিত হয়নি। কয়েক হাজার প্রমাণ আছে। আমি মাত্র কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ তুলে ধরেছি। 
1. তাজমহল নির্মাণের কোনো উল্লেখ কোনো সমসাময়িক সরকারী নথি বা দস্তাবেজে পাওয়া যায়নি। যে সৌধ গড়তে প্রায় 22 বছর লেগেছিল তার কোথাও কোনো উল্লেখ নেই। 
2. অথচ মকরানা মার্বেল পাথরের খনি থেকে মার্বেল নেবার ফরমান আজো আছে। জয়পুরের রাজা জয়সিংহের আওতায় ছিল ওই খনি। প্রশ্ন হচ্ছে মৃত্যুর পরে পরেই যদি সৌধ নির্মাণ শুরু হয় তাহলে কম পক্ষে 15 থেকে 20 বছর তো ভবন নির্মিত 
হতেই লাগার কথা। সঙ্গে সঙ্গে মার্বেল তখন লাগবে যদি ভবন আগে থেকেই ছিল। 
3. তাজ ও মহল দুটোই সংস্কৃত শব্দ। এটাও নজিরবিহীন। কোনো ইসলামিক সৌধ কোথাও নেই যার নাম মহল। 
4. অসংখ্য ইউরোপীয় পর্যটক তাভার্ণিয়ের, পিটার মান্ডি, ডে লয়েড,, বার্ণিয়ের, জোহান আলবার্ট এই সময় ভারত ভ্রমণ করতে আসেন। তাদের কারোর বর্ণনায় তাজমহল নির্মাণ এর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ ওই জায়গায় এক বিশাল 
প্রাসাদের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শাহজাহান এর আমলে ওই মহলের অস্তিত্ব ছিল। 
5. তাজমহল তো সমাধি। সেক্ষেত্রে মহল বলা কতটা যুক্তিসম্মত।
সমাধি নয় এটি একটি বহু প্রাচীন মন্দির। নাম তেজো মহালয়া। এখানে অগ্রেশ্বর শিবের লিঙ্গ ছিল যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। এই অগ্রেশ্বর মহাদেবের নাম থেকে আগ্রা শহরের নামকরণ হয়। বিশ্বকর্মা বাস্তুশাস্ত্র বলে এক পৌরাণিক বইতে 
এর উল্লেখ আছে। 1155 সালের এক পাথরের স্তম্ভ আছে যাতে সংস্কৃতে খোদাই করে লেখা আছে " এই মন্দির এত বেশি সাদা আর সুন্দর যে শিব আর কৈলাশে ফিরে যাননি। " তাজমহল থেকে মাত্র 36 কিমি দূরে পাওয়া যায় এটি। লক্ষ্নৌ 
মিউজিয়ামে আজো সেই স্তম্ভ বটেশ্বর স্তম্ভ বলে উল্লেখ আছে। ASI এর 1874 সালের বার্ষিক রিপোর্টে একে কিন্তু তেজো মহালয়া স্তম্ভ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী কালে কি এমন ঘটলো যে সব ধামাচাপা দিতে হলো। 

**এটা যে মন্দির ছিল তার প্রমাণ জুতো খুলে প্রবেশ করতে হয়। সমাধিক্ষেত্রে জুতো কিন্তু খোলা হয় না। 
** যে কক্ষে মমতাজ বেগমের সমাধি তার মেঝের মার্বেল কিন্তু অন্য বাকি মার্বেলের থেকে আলাদা। মেঝেতে সত্যি কিন্তু আজো শিব লিঙ্গের অংশ আছে। 
** গম্বুজের মাথায় আজো ত্রিশূল আছে। 
** 108 সংখ্যা বিভিন্ন জায়গায় খোদাই আছে। 
** জাট অধ্যুষিত আগ্রা, তাদের আরাধ্য দেবতা তেজ জী। অথচ তার মন্দির থাকার কথা ছিল যা অদ্ভুত ভাবে অনুপস্থিত। আসলে আজকের তাজমহল হলো তাদের দেবতার মন্দির তেজো মহালয়া। 
** পদ্ম ফুলের কারুকার্য আছে যেটা কোনো মুসলিম সৌধে সম্পূর্ণ অসম্ভব। 
এই মন্দির যে শাহজাহান এর সময় ভগ্নদশা ছিল তার অকাট্য প্রমাণ আছে শাহজাহান এর দরবারী বিবরণে। " বাদশাহনামা " (vol 1, page 403) তে মমতাজ বেগমের সমাধি নির্মাণ করবার জন্য জয়পুরের রাজা জয়সিংহের কাছ থেকে 
এক বিশাল প্রাসাদ নেওয়ার কথা নথিবদ্ধ আছে। ওই প্রাসাদ রাজা মানসিংহের প্রাসাদ বলে পরিচিত ছিল যা "ইমারত-এ-আলিশান-ওয়া-গম্বুজ" বলে উল্লেখ আছে সরকারী নথিপত্রে। আজো জয়পুরে সেই ফরমান আছে। তবে কেন তারা প্রকাশ 
করেনি সেটা অজ্ঞাত। 

ঔরঙ্গজেবের তিনটি চিঠি আছে যাতে ওই প্রাসাদ পুনর্নির্মাণ এর জন্য শাহজাহান এর অনুমতি চাওয়া হয়েছে। 
ASI এর ফলক অনুযায়ী তাজমহল তৈরির তারিখ লিপিবদ্ধ আছে সাল 1631 থেকে 1653 অথচ পুনর্নির্মাণ এর অনুমতি পত্রের তারিখ হলো সাল 1651। অত্যন্ত বৈপরীত্য। নতুন ভবন পুনর্নির্মাণ কেনো। 
কার্বন টেস্ট একবার হয় ও তাতে দেখা যায় এর বয়স আরো পাঁচশ বছর পুরানো। 
22 টি বিশাল ভবন আছে এই তাজমহলে যা বন্ধ। সব প্রাচীর দেওয়া। সীল করা। 
একটি সঙ্গীত মহল আছে যা সমাধি সৌধে বড় বেমানান। 
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কোনো দিন চায়নি এর সত্যতা প্রকাশ পায়। তাই কোনো মেরামতির কাজ করাতে হলে খুব গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। তবে বেশ কিছু শ্রমিক একবার আওয়াজ উঠিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে গরীব 
শ্রমিকদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। 
