দক্ষিণবঙ্গ (South Bengal)

মুকুটমণিপুর – অনুচ্চ পাহাড়ি টিলা, দুই নদীর বাঁধ আর সবুজে ছাওয়া টলটলে নীল জলের লেক। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুই-ই মনোরম। আরও অপরূপ জ্যোৎস্না রাত। লেকের জলে বোটিংয়ের ব্যবস্থাও আছে।
৬ কিমি দূরে পার্শ্বনাথ স্বামীর মন্দির। নদী পেরিয়ে ওপারে দেড় কিমি দূরে ছোট্ট দ্বীপ বনপুকুরিয়া মৃগদাবটি। মুকুটমণিপুর থেকে বাসে খাতড়া হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় ঝিলিমিলি।
যাওয়া – কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর – পশ্চিমবঙ্গের নানান জায়গা থেকে বাস যাচ্ছে মুকুটমণিপুর। কাছের স্টেশন বাঁকুড়া(BQA)।
থাকা – সেচ ও জল দপ্তরের কংসাবতী ভবন।বুকিং – সুপারিনটেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, কংসাবতী প্রোজেক্ট, বাঁকুড়া বা ইরিগেশন অ্যান্ড ওয়াটার সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট, রাইটার্স বিল্ডিং, কলকাতা।ইয়ুথ হোস্টেল। বুকিং : অধিকর্তা, যুব কল্যাণ দপ্তর।৩২/১ বি বা দী বাগ (দক্ষিণ)।পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের সোনাঝুরি প্রকৃতি ভবন কেন্দ্র। এছাড়াও নানান বেসরকারি হোটেল রয়েছে।
মেলা– পৌষ মাসের মকর সংক্রান্তিতে কাঁসাই নদীর তীরে ঝিলিমিলিতে বসে টুসু পরব।
 মুকুটমণিপুর – কংসাবতী ও কুমারী নদীর সঙ্গমে মুকুটমণিপুর।  মুকুটমণিপুর থেকে বাসে খাতড়া হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় ঝিলিমিলি। মুকুটমণিপুর পার্শ্বনাথ টিলা উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ! এটি সবুজ মোড়ানো "রাঙ্গামাটি" এর নেকলেস আকৃতির বাঁধের জন্য বিখ্যাত। মুকুটমণিপুর কংসাবতী বাঁধ, ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাটির বাঁধ তার বিস্তীর্ণ জলাশয়ের জন্য মনোযোগ চায় !
শুশুনিয়া - শাল, সেগুন, অর্জুন, পলাশ, মহুয়া,বাবলা, আমলকী-র সবুজে ছাওয়া পাহাড় আর গ্রাম নিয়ে শুশুনিয়া। পাহাড়তো নয়, বড়সড় একটা টিলা। বয়সে হিমালয়ের চেয়েও প্রাচীন –সেই আর্কিয়ান যুগে জন্ম। ইতিহাসেও উল্লেখ রয়েছে এই শুশুনিয়ার কথা। একসময় রাজপুত রাজা চন্দ্রবর্মার দুর্গ ছিল পাহাড়ের মাথায়। ৪৪০ মিটার উঁচু এই পাহাড়ের পায়ের কাছে নির্জনে বয়ে চলেছে গন্ধেশ্বরী নদী। কোলঘেঁষে যে ঝরনাটা বয়ে চলেছে তার জল ওষধির কাজ করে। বর্ষায় পুরো এলাকা সবুজ হয়ে যায়, আর বসন্তে রঙ বদলে পলাশের রঙে রাঙা। অদ্ভুত সুন্দর ছায়াঘন পরিবেশ। জ্যোৎস্নারাতে শুশুনিয়াকে কেমন অপার্থিবমনে হয়। ঝরনার ঠিক উল্টোদিকেই সিঁদুরমাখা শিলামূর্তিটি স্থানীয় মানুষ নৃসিংহদেব রূপে পুজো করেন।
গ্রীন লজের পাশ দিয়ে চার -পাঁচ কিলোমিটার নীচে নেমে, শুশুনিয়া গ্রাম। গ্রামটায় কয়েক হাজার লোকের বাস। একটা হাইস্কুল আছে, লাইব্রেরি আছে, ব্যাঙ্ক আছে। তিনমাথার মোড় থেকে ছাতনার বিপরীত দিকের রাস্তাটায় একটু এগিয়ে বাঁহাতে একটা রাস্তা চলে গেছে হুকুমিয়া গ্রামের দিকে। দু’পাশে সুন্দর শালের জঙ্গল।
তিনমাথার মোড় থেকেই ডানদিকের সরু রাস্তাটা চলে গেছে একেবারে শুশুনিয়া পাহাড়ের নীচে যেখানে ঝরনার জলটা এসে পড়েছে। তার পাশ দিয়ে একটা পায়ে চলার পথ উঠছে ওপরে। অর্ধেকটার কিছুটা ওপরে পায়ে চলার পথটা শেষ হয়ে গেছে। পাহাড়ের একবারে মাথায় একটা ছোটমতো শিবমন্দির আছে। ঠিক ওপরে ওঠার আগেই একটা ঘনজঙ্গল। জঙ্গলে হনুমান আর বুনো শুয়োর আছে।
পাহাড়ের তলায়, ঝরনার আশেপাশে কয়েকটা দোকান আছে। এখানকার বাসিন্দারা পাথর কেটে নানান জিনিষপত্র তৈরি করেন, তারই সব দোকান। তিনমাথার মোড়ের কাছেও এরকম বেশ কয়েকটা দোকান আছে। তবে হুকুমিয়া গ্রামের কাছে শিলালিপি গ্রামে গেলে কারিগরদের কাজ একেবারে সামনে বসেই দেখা যায়।
শুশুনিয়ায় আসার পথে ছাতনায় দেখে নেওয়া যায় বিশালাক্ষী বা বাসুলি দেবীর প্রাচীন মন্দিরটি। এই মন্দিরের পূজারী ছিলেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস। ছাতনায় চন্ডীদাসের নামে একটা কলেজ হয়েছে -বড়ু চন্ডীদাস মহাবিদ্যালয়।
যাওয়াঃ নিকটবর্তী রেলস্টেশন ছাতনা। কলকাতা থেকে দূরত্ব ১৩২ কিলোমিটার। ছাতনা থেকে শুশুনিয়ার দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। ছাতনায় পৌঁছে শুশুনিয়া মোড় থেকে ট্রেকারে মিনিট পনেরো-কুড়ি লাগে শুশুনিয়ায় তিনমাথার মোড়ে পৌঁছাতে। বাঁকুড়া বা দুর্গাপুর থেকে বাসে বা গাড়িতেও শুশুনিয়া আসা যায়।
থাকাঃ এখানে থাকার জায়গা তিনটে-কোলে বাংলো, রামকৃষ্ণ লজ আর গ্রীন লজ। মোড়ের মাথায় বেশ কয়েকটা ঝুপড়ি দোকান আছে। দোকানগুলোয় বলে রাখলে রান্না করে রাখে। ঠিক বাঁহাতেরটাই ঝড়ুদার দোকান। কথা বলে রাখলে ঝড়ুদা থাকা -খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন। ঝড়ুদা -৯৪৭৪৭২৪৬২৩ (জুলাই ২০১১)।
ভ্রমণ কাহিনি - শুশুনিয়া পাহাড় আর এক টেনিদার গল্প || শুশুনিয়াকথা

