ফাইনালে খেলা হল না, তৃতীয় স্থান দখলের লড়াইয়ে আজ কী মন্ত্র পাওলিনহোদের 
ইউরোপের ফুটবলের কাছে বারবার কোথায় পিছিয়ে পড়ছে আফ্রিকার দেশগুলো? লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা মুখ কেন পারল না ফাইনালে উঠতে?
একটা সময় যেখানে ফুটবলবিশ্ব শাসন করত ব্রাজিল! শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এল এমনই অস্বস্তিকর প্রশ্ন। যা শুনে ব্রাজিল কোচ কার্লোস
আমাদেউ ক্ষোভপ্রকাশ করে বসলেন। বললেন, আমাদের দেশে প্রতিভা রয়েছে। ভাল ফুটবলার রয়েছে। কিন্তু রয়েছে তাকে সংহত করার অভাব। আরও অনেক
টুর্নামেন্ট দরকার। অনেক বেশি সতর্কতার দরকার। মালির কোচ জোনাস কোকোউ কোমলা বললেন, ইউরোপের মতো প্রতিভা আছে আমাদের দেশেও। কিন্তু আমাদের
প্রধান বাধা অর্থ। এর সঙ্গেই তিনি ব্রাজিলের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বলেন, ব্রাজিলের অনেক ফুটবলারই ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল খেলে।
জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে টুর্নামেন্টের পর কোনও সম্পর্কই থাকে না। স্বভাবতই একটা ফাঁক তৈরি হয়। যেটা বড় সাফল্য পেতে সমস্যা
তেরি করে। ২০১৪ সিনিয়র বিশ্বকাপে শেষ চার থেকেই ছিটকে গিয়েছিল ব্রাজিল। তৃতীয় স্থানের ম্যাচেও হেরেছিলেন দাভিদ লুইজরা। আসলে ওই ম্যাচে
ফুটবলারদের কোনও মোটিভেশনই ছিল না। এবারও কী তাই হতে চলেছে? ব্রাজিলের মোটিভেশন কী? আমাদেউ এবং তাঁর টিমের ফুটবলাররা সেমিফাইনাল থেকে
ছিটকে যাওয়ার পর মানসিকভাবে রীতিমতো বিধ্বস্ত। ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর পুরো টিম হোটেলে ফিরে ফুটবলাররা কান্নাকাটি করেছে। আমাদেউ শুক্রবার সাংবাদিক
সম্মেলনে এসে বললেন, আমরা সত্যিই খুব মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। টিম হোটেলে ফিরে আমি সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে বৈঠক করি। এবং
ঠিক করি যেভাবেই হোক ফুটবলারদের মোটিভেট করতে হবে। আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ব্রাজিল যে কোনও ম্যাচেই মাঠে নামে জেতার লক্ষ্য
নিয়ে। রবিবারও জয়ের জন্যই খেলব। এবার বিশ্বকাপে মালি কিন্তু নজর কেড়েছে। সেমিফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধেও তারা জিততে পারত। কিন্তু ভাগ্য সহায়
হয়নি তাদের। তা নিয়ে আফশোস থাকলেও তাকে ভুলেই ব্রাজিলকে হারানোর পরিকল্পনা করছেন মালির কোচ। সেমিফাইনালের গোল বিতর্ক প্রসঙ্গে টেনে জোনাস
বলে দেন, আশা করি, ফিফা পরের বার থেকে এই টুর্নামেন্টে গোল লাইন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবে। তবে আপাতত আগের ম্যাচের কথা
ভুলে আমরা ব্রাজিলকে হারিয়ে অন্তত তৃতীয় হতে চাই। 