কোর্টে ফেরার যুদ্ধে সাইনার প্রেরণাই কাশ্যপের শক্তি 
গত মার্চে জার্মান ওপেনে খেলার সময় হাঁটুতে ঝাঁকুনি লেগেছিল। কোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসার পরেই তিনি বুঝেছিলেন, চোট গুরুতর। জার্মান
ওপেনে খেলতে নামার সময় তাঁর র্যাঙ্কিং ছিল ১৫ নম্বর। রিও অলিম্পিক্সে খেলার ছাড়পত্র পাবেন বিশ্বের প্রথম ১৬ জন খেলোয়াড়। জার্মান
ওপেন থেকে ছিটকে যাওয়ার পরেও তাঁর র্যাঙ্কিং মাত্র দু'ধাপ নেমে ১৭ নম্বরে। তখনও পারুপল্লি কাশ্যপ নিশ্চিত যে, মার্চ থেকে মে
- তিন মাসের মধ্যে চোট সারিয়ে তাঁর দ্বিতীয়বার অলিম্পিক্সে অংশগ্রহণ আটকাবে না। কাশ্যপ নিশ্চিত ছিলেন এর মধ্যে দশটা টুর্নামেন্ট খেলে
তাঁর র্যাঙ্কিং নেমে আসবে প্রথম দশের মধ্যে। রিও অলিম্পিক্সে খেলার স্বপ্ন শেষ। তিন সপ্তাহ আগে মুম্বইয়ের হাসপাতালে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করে
হায়দরাবাদে ফিরেছেন কাশ্যপ। সোমবার সেখান থেকে ফোনে কথা বলার সময় তাঁর গলায় অব্যক্ত এক যন্ত্রণা। বললেন, সুস্থ হওয়ার জন্য আপ্রাণ
চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারলাম না। হাঁটুর ভিতরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশিটাই ছিঁড়ে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচার না করালে এক বছরের জন্য কোর্টের বাইরে
চলে যেতে হতো। এবার দু'মাস পর কোর্টে ফিরতে পারব। কাশ্যপের মা সুভদ্রা শঙ্করের গলায় আরও হতাশা। তিনি জানালেন, তাঁর ছেলে
সংবাদপত্রে খেলার পাতা পড়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকী, টেলিভিশনেও ব্যাডমিন্টন খেলা হলে কাশ্যপ টিভি বন্ধ করে দিচ্ছেন! অথবা চ্যানেল
ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। প্রসঙ্গটা শুনে ২৯-বছর বয়সী খেলোয়াড়ের আপ্রাণ চেষ্টা এড়িয়ে যাওয়ার। বলছেন, আসলে বই পড়ে দিনের অধিকাংশ সময়টা কাটাচ্ছি। বিভিন্ন
ক্রীড়াব্যক্তিত্বের জীবনী পড়ছি। সেখানে যেমন সচিন তেন্ডুলকর আছেন। সেরকম রাফায়েল নাদালও আছেন। এঁদের সকলেরই খেলোয়াড় জীবনে দুঃসময় গিয়েছে। সেখান থেকে
মনের জোরে ফিরে আসার কাহিনিগুলো পড়ে নিজের মনের জোর বাড়ানোর চেষ্টা করছি। কাশ্যপের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রয়েছে আরও এক ব্যাডমিন্টন
ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিঃশদ্ব ভূমিকা। তিনি ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের মুখ সাইনা নেহওয়াল! কাশ্যপ জানালেন, প্রত্যেক সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন সাইনা
তাঁকে ফোন করছেন। বললেন, সাংহাইতে এশিয়ান ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে গিয়েছিল সাইনা। সেখান থেকেও ফোন করে খোঁজ নিয়েছে, বলেছে রিও অলিম্পিক্সটাই
খেলোয়াড়জীবনের শেষ নয়। কোর্টে ফিরতেই হবে। কাশ্যপ আরও বললেন, দু'দিন অন্তর সাইনা আমাকে ফোন করে। শেষবার কথা বলার সময় বলল,
আমার পুরনো ভাল খেলার ভিডিও রেকর্ডিংগুলো দেখতে। তাতে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী কাশ্যপ মঙ্গলবার চলে যাচ্ছেন মুম্বইয়ে।
সেখানেই আগামী একমাস ধরে চলবে তাঁর রিহ্যাব। সঙ্গে নিয়ে যাবেন তাঁর নজরকাড়া পারফরম্যান্সগুলোর ভিডিও রেকর্ডিং। তিনিই তো এখনও পর্যন্ত ভারতীয়
ব্যাডমিন্টনে একমাত্র পুরুষ খেলোয়াড় যিনি অলিম্পিক্সের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন (লন্ডন ২০১২)। কাশ্যপ বলছেন, বিছানায় শুয়ে এই কথাগুলোই আমি প্রত্যেক মুহূর্তে
নিজেকে বলি। আগামী জুলাইয়ে কানাডা ওপেন দিয়ে শুরু হবে কাশ্যপের প্রত্যাবর্তনের অভিযান। আর অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড় এখন থেকেই জানিয়ে রাখছেন,
কোর্টে ফেরার পর প্রথম যে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হবেন সেই সাফল্য উৎসর্গ করবেন মা আর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো প্রিয় বন্ধু সাইনা
নেহওয়ালকে! 