স্বচ্ছ ক্রিকেট অভিযান, ক্ষমতাতন্ত্রের মৌচাকে ঢিল 
বাধার মুখোমুখি হতে হয় সংস্কারের যে কোনও প্রয়াসকেই। সংস্কারের কপালে গোলাপশয্যা নেই ! সমাজেতিহাসে বহু ধরনের সংস্কার সংঘটিত হয়েছে
এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংস্কারকর্মকে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কারণ, সংস্কার মূলত ক্ষমতার ভরকেন্দ্রকে আঘাত করে। আর, আপন অবস্থান অটুট রাখার
উগ্রতায় ভরকেন্দ্র প্রত্যাঘাত করে। সতীদাহ রদ আন্দোলন থেকে ক্রিকেটকে কলুষমুক্ত করা - সর্বত্র একই লড়াই। ক্রিকেটকে সংস্কৃত করে তুলতে লোঢা
কমিটির সুপারিশকেও প্রতিবন্ধকতার সামনে পড়তে হয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে এবার সেই সুপারিশের গতি পাওয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী
রায় ভারতীয় ক্রিকেটে সত্যিই উজ্জ্বল দিন আনতে পারবে কি না, সময়ই তা বলবে। শক্তি বা ক্ষমতার সূত্রে পথ চললে হয়তো
নতুন সংস্কারের প্রয়োজন হবে আবারও। অনন্তকাল পদ আঁকড়ে থাকার কালচার ভাঙতে চেয়েছিল লোঢা কমিটি। সেই প্রয়াসকে যে দীর্ঘ সময় ধরে
তুমুল বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হল, দুঃখজনক বিষয় সেটিই। কম কলঙ্কে বিভূষিত হয়নি ক্রিকেট-দুনিয়া। স্পট ফিক্সিং, ম্যাচ ফিক্সিং - কোনওটিই ক্রীড়াশিল্পের
কণ্ঠভূষণ নয় ! ব্যক্তিবিশেষ বা নির্দিষ্ট লবিকে দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়াও কাজের কথা নয়। কিন্তু যখনই এসবের বিরুদ্ধে সুচিন্তিত
ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়াস করা হল, বাধা এল তখনই ! এই প্রবণতা আসলে শুধু ক্রীড়াজগতেই আবদ্ধ নয়। এটি নীরক্ত সমাজ-মানসিকতা। বলা
জরুরি, এত যে নাট্যমুহূর্তের অভিনয় এবং এত যে কাঠখড় পোড়ানো হল, তার কারণ, খেলাটির নাম ক্রিকেট। বহুদিন ধরেই ক্রিকেট এ
দেশে সুয়োরানির আসনে প্রতিষ্ঠিত। ক্রিকেটের যেন সাত খুন মাপ ! সামাজিক সংস্কার, দূষণবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষার প্রসার বা খাদ্যের জোগান সুনিশ্চিত
করা - সবকিছুরই ঊর্ধ্বে যেন ক্রিকেট ! বিনোদন ও সাধনার ক্ষেত্র যখন শুধুমাত্র বাণিজ্যের উপকরণ হয়ে ওঠে, তখন অবশ্য এমনই
ঘটে ! আর সেই বাণিজ্যের হাটে যখন ক্ষমতাতন্ত্র মাথা চাড়া দেয়, তখন তো এমন হওয়ারই কথা ! সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত
এই 'কালচার'টার মূলে আঘাত করেছে। আশা করা যায়, এ দেশের ক্রিকেট প্রকৃত অর্থেই আবার 'জেন্টলম্যানস গেম' হয়ে উঠবে ! 