রাত দেড়টায় ফোন শৈশবের কোচকে, ফ্লাইটে হেরফের করেই ফের ভয়ঙ্কর 
রাত দেড়টায় মোবাইল ফোনের অপর প্রান্তে পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনেই বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন কপিল পাণ্ডে। দিনটা ছিল ৯ মে। ইডেনে
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। টিমহোটেলে ফিরে গভীর রাতে কুলদীপ যাদব ফোন করেছিলেন কানপুরে তাঁর শৈশবের
কোচ কপিলকে। চায়নাম্যান স্পিনার তখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। উদ্বিগ্ন। মুম্বইয়ের ব্যাটসম্যান ঈশান কিষান চার ছক্কায় যে তাঁর আত্মবিশ্বাসকেই বিপন্ন করে তুলেছিলেন!
রাত দেড়টায় ফোন করে কুলদীপের প্রথম প্রশ্নটাই ছিল, স্যার কী ভুল হচ্ছে? ওর গলা শুনে চমকে উঠেছিলাম। বরাবর ডাকাবুকো বলেই
চিনি কুলদীপকে। ফোনে তার কণ্ঠস্বর এত বিষণ্ণ শোনাচ্ছে কেন! বুধবার দুপুরে কানপুর থেকে মোবাইল ফোনে 'এবেলা খেলা'কে বলছিলেন কপিল। মঙ্গলবার
টিভিতে কুলদীপের বল হাতে জ্বলে ওঠা দেখেছেন। যে ইডেনে মুম্বই ব্যাটসম্যানদের হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছিল তাঁর শিষ্যকে, সপ্তাহ ঘুরতে না
ঘুরতে সেই মাঠেই দলের জয়ের নায়ক হিসাবে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন কুলদীপ। ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে শৈশবের কোচের মন্ত্র। কী পরামর্শ দিয়েছিলেন
কুলদীপকে? বলেছিলাম, ফ্লাইট বেশি করানোর জন্য বল ব্যাটের কাছাকাছি পড়ছে। ব্যাটসম্যান মেরে দিচ্ছে। পরামর্শ দিয়েছিলাম, ফ্লাইট করাও। কিন্তু বলটা যেন
একটু আগে পড়ে স্পিন করে। অর্থাৎ, নিয়ন্ত্রিত ফ্লাইট। সেটাই রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে করেছে ও। সাফল্যও পেয়েছে, বলছিলেন কপিল। যোগ করলেন,
ওকে বলেছিলাম, টেস্ট বা ওয়ান ডে-র মতো খুব বেশি ফ্লাইট করানোর দরকার নেই। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী বল করো। ফ্লাইট করানো
মানে বল শুধু হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখাই নয়। বরং নিশ্চিত করা যাতে বল পড়ে ঘোরে। সেই পরামর্শ মেনেই ও ফের ছন্দে
ফিরেছে। ছোটবেলা পেসার হতে চাওয়া কুলদীপের কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল কপিল স্যারের ক্লাস। যিনি জোরে বোলিং বন্ধ করিয়ে কুলদীপকে দিয়েছিলেন
স্পিন করানোর মন্ত্র। আইপিএলের মাঝপথে ছাত্রের ফর্ম হারানো দেখে দুশ্চিন্তা হয়নি? কপিল বলছেন, তিন-চারটি ম্যাচ খারাপ কেটেছিল ওর। আমি শুধু
বলেছিলাম, স্বাভাবিক বোলিংটা করো। এটা ভেবো না যে, প্রচুর মানুষ ও নির্বাচকেরা তোমার বোলিং দেখছে। তাতে চাপ বাড়ে। কপিল আরও
বললেন, গতির তারতম্য ঘটাতে বলেছিলাম। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করা পেসারদের ক্ষেত্রে যেমন নাকল বল খুব কার্যকরী। ব্যাটসম্যান বিভ্রান্ত
হয়। স্পিনারদের বলের গতি কম থাকলে ব্যাটসম্যান স্টেপ আউট করার বা সুইপ খেলার সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু বল একটু জোরের
ওপর ছাড়লে সেটা হয় না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ব্যাটসম্যানদের ফর্ম্যাট। এখানে বোলার হিসাবে সফল হতে গেলে বৈচিত্র দেখাতেই হবে। কপিলের সঙ্গে
কথা বলেই রাজস্থান ব্যাটসম্যানদের জন্য নকশা তৈরি করেছিলেন কুলদীপ। কপিল বললেন, দুরন্ত ফর্মে থাকা জশ বাটলারকে টানা ওভার দ্য উইকেট
বল করতে বারণ করেছিলাম। ওভার দ্য উইকেটের পাশাপাশি রাউন্ড দ্য উইকেটও করতে বলেছিলাম। বাটলারকে কয়েকটা বল করেছে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার
গতিতে। দু-একটা বল করেছে ঘণ্টায় ১০৫-১০৭ কিলোমিটার গতিতে। তাতেই কাজ হয়েছে। অজিঙ্ক রাহানে স্পিনারদের ছন্দ নষ্ট করার জন্য সুইপ-রিভার্স সুইপ
মারে। রাহানে রিভার্স সুইপ মারার চেষ্টা করতেই রং ওয়ান দিল। স্টুয়ার্ট বিনিকেও রং ওয়ান করেছিল। বিনি তো বুঝতে না পেরে
ড্রাইভ মারতে গেল আর আউট হল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ও সাধারণত ওভার দ্য উইকেট বল করে। স্টোকসকে রাউন্ড দ্য উইকেট করল।
উইকেট নিয়ে গেল। ম্যাচের সেরার স্বীকৃতি পাওয়ার পর ছাত্র ফোন করেননি? কপিল বলছেন, ও সফল হলে ফোন করতে নিষেধ করি।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন সমস্যায় পড়লেই একমাত্র ফোন করার কথা বলেছি। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো বোলিং করেছে। এবার অনেকটা চাপমুক্ত হবে। গর্বিত
শিক্ষকের আশ্বাস, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চোট নিয়ে ফিরেছিল। পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লেগেছে। তবে যত ম্যাচ খেলবে, ওর বোলিংয়ের ধার
আরও বাড়বে। 