বিশ্বরেকর্ড মোছার প্রস্তাবে তোপ কিংবদন্তি ম্যারাথন দৌড়বিদের 
সোমবারই সংস্থার প্রধান এড ওয়ার্নার জানিয়ে দিয়েছেন যে, ডোপ কলঙ্ক থেকে অ্যাথলেটিক্সকে বাঁচাতে হলে অতীতের সমস্ত বিশ্বরেকর্ড মুছে দেওয়া
হোক! এবং ওয়ার্নারের প্রস্তাব, অ্যাথলিটরা সততা নিয়ে আবার রেকর্ড গড়ার জন্য ট্র্যাকে নামুন। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে র্যাডক্লিফও বিশ্বরেকর্ড খোয়াতে
পারেন। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে র্যাডক্লিফ বলেছেন, নির্দোষ অ্যাথলিটদেরও কিন্তু এর জন্য তাদের রেকর্ড খোয়াতে হবে। অথচ, তারা কিন্তু
ডোপিংয়ে অভিযুক্ত অ্যাথলিটদের বিরুদ্ধেই ট্র্যাকে নেমে তাদের ইভেন্টে রেকর্ড করেছিলেন। এটা কি সুবিচার? র্যাডক্লিফ আরও বলেছেন, আমি জানি আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সে
প্রত্যেকের বিশ্বরেকর্ড ডোপিং করে হয়নি। ব্রিটিশ অ্যাথলেটিক্স সংস্থাকে পাল্টা প্রস্তাবও দিয়েছেন ৪২ বছর বয়সী ম্যারাথন দৌড়বিদ। বলেছেন, কোনও অ্যাথলিটের বিরুদ্ধে
ডোপিংয়ের ন্যূনতম অভিযোগ উঠলেই তাকে নির্বাসিত করা হোক। তখন তার পুরনো যা রেকর্ড আছে মুছে দেওয়া হোক। এর উদাহরণও দিয়েছেন
র্যাডক্লিফ। বলেছেন, যেমন লিনফোর্ড ক্রিস্টি। ১৯৯৯-এ একবার ডোপ পরীক্ষায় সে পাশ করতে পারেনি। তার রেকর্ড মুছে দেওয়া হলে আমার কিছু
বলার নেই! ডোপিং কলঙ্ক থেকে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সকে মুক্ত করতে ব্রিটিশ অ্যাথলেটিক্স সংস্থা (ইউকে অ্যাথলেটিক্স) ১৪টি প্রস্তাব দিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম,
বিভিন্ন অ্যাথলিটদের করা অতীতের বিশ্বরেকর্ডগুলো মুছে দেওয়া। সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে ওয়ার্নার বলেছেন, অ্যাথলেটিক্সের বিশ্বাসযোগ্যতা এর আগে এত বড় প্রশ্নের মুখে
হয়তো পড়েনি। ডোপিংয়ের কারণে যাঁরা সততা বজায় রেখে লড়াই করছেন, তাঁদের প্রতিও কেউ বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। তাই স্বচ্ছতা ফেরাতে
অতীতের যাবতীয় বিশ্বরেকর্ডকে মুছে ফেলা হোক। কোনও অ্যাথলিট ডোপিং করে ধরা পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে কঠিনতম শাস্তি প্রয়োগ করা দরকার। এদিকে,
দশ বছর আগে ডোপিংয়ের জন্য রক্ত নেওয়া ২০০টি পাউচ নষ্ট করার অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেছিল আন্তর্জাতিক সাইক্লিং ইউনিয়ন এবং ওয়াডা।
কিন্তু জানা গিয়েছে, সেই পাউচগুলি বার্সেলোনার ফ্রিজারে রাখা আছে। সেই মামলার রায় চলতি মাসেই মাদ্রিদ আদালত ঘোষণা করতে চলেছে। অ্যাথলেটিক্সমহলে
জল্পনা যে, মামলার রায় ঘোষণা হলে গত দশ বছরে বিশ্বরেকর্ড করা একাধিক বিখ্যাত অ্যাথলিটের বিরুদ্ধে নতুনভাবে ডোপিং করার তথ্য উঠে
আসতে পারে। 