ঘরোয়া ক্রিকেটে বিদেশি চান ওয়ালশ 
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ডামাডোলের কারণে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার ফল সুদূরপ্রসারী। এরকমই মনে করছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের
পেস কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হয়েছে শনিবার। প্রথম দিনেই ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলে
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটকে উপেক্ষা করে বিগ ব্যাশ আইপিএলের মতো বিদেশি টুর্নামেন্ট খেলে বেড়াচ্ছেন
ক্রিস গেইল সহ একাধিক ক্যারিবিয়ান তারকা। একই সঙ্গে আর্থিক চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে বারবার বিবাদে জড়িয়েছেন সে
দেশের ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রবল চাপে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালশ বলেছেন, খুব দ্রুত এই সমস্যাগুলোর
সমাধান খুঁজে বার করতে হবে। প্রয়োজনে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের ধাঁচে বিদেশি ক্রিকেটারদের আমাদের দেশে এনে খেলাতে হবে। না হলে এই
সমস্যার সুদুরপ্রসারী প্রভাব ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ওপরে পড়বে। পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটীয় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আর এক কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েড।
দু'বারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক প্রাক্তন পেস তারকা অ্যান্ডি রবার্টস, মাইকেল হোল্ডিংদের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, আমাদের সময়ে অনেক ক্যারিবিয়ান তারকাই কাউন্টি ক্রিকেটে
খেলত। সেখান থেকে আরও ভাল খেলার রসদ খুঁজে পাওয়া যেত। বর্তমানে আমাদের দেশের ক্রিকেটাররা কাউন্টি খেলায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ক্লাইভের
আক্ষেপ, শেখার আগ্রহ বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে কমে গিয়েছে। ফলে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দিচ্ছে। ক্লাইভের কথার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে শনিবার ওয়েস্ট
ইন্ডিজের সহ অধিনায়ক ক্রেগ ব্রেথওয়েটের মন্তব্যেও। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের প্রথম দিনেই তাদের চাপে ফেলে দিলেও ব্রেথওয়েট বলেছেন, মাঠে আমাদের দিনটা খুব
একটা খারাপ কাটেনি। যা শোনার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্ট্রেলীয় সমর্থকরা বিদ্রুপ করছেন। বলা হচ্ছে, ক্যারিবিয়ানরা বোধহয় আরও বেশি রান উঠবে
ভেবেছিলেন। দিনের শুরুতে ডেভিড ওয়ার্নার অল্প রানে (২৩) ফিরে গেলেও অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যান ওপেনার জো বার্নস। ১২৮ রান করেন
তিনি। আগের টেস্টে সেঞ্চুরি করা শন মার্শের বদলে এই টেস্টে নির্বাচকরা আস্থা রেখেছিলেন উসমান খাওয়াজার ওপরে। খাওয়াজা হতাশ করেননি। তিন
নম্বরে তিনি করেছেন ১৪৪ রান। দু'জনের পার্টনারশিপে উঠল ২৫৮ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৯৬৮-তে
ইয়ান চ্যাপেল এবং বিল লরি-র পার্টনারশিপে উঠেছিল ২৯৮ রান। খাওয়াজার সেঞ্চুরির পর এখন প্রশ্ন উঠে গিয়েছে পরের টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার প্রথম
এগারো কী হতে পারে? খাওয়াজা চোট সারিয়ে ফিরে সেঞ্চুরি করায় প্রথম এগারোয় তাঁর জায়গা পাকা বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে,
আগের টেস্টে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করা মার্শ-কে পরপর দু'টি টেস্টে বাইরে না-ও রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কি চলতি টেস্টের প্রথম
দিনেই সেঞ্চুরি করা ওপেনার বার্নস বাদ পড়বেন? সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে বার করতে হবে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ-কে। 