কোস্টা রিকার রক্ষণের জঙ্গল কাটতে আক্রমণে আজ জোর দিক ব্রাজিল 
সিলভা স্যান্টোস জুনিয়র কি আজ, শুক্রবার কোস্টা রিকার বিরুদ্ধে খেলতে পারবে? ব্রাজিল সমর্থকদের মনে এটাই এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।
নেমার না খেললে দলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। যেমন গতবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হয়েছিল। তবে আমার মনে হয়, নেমার খেলবে। যা
খবর পেয়েছি তাতে সোমবার চোটের জায়গায় ব্যথা বাড়ায় প্র্যাক্টিস না করলেও গত দু'দিন ধরে ও মাঠে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম
করছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, নেমার যদি খেলেও, সেক্ষেত্রে ওকে কি চেনা ছন্দে পাওয়া যাবে? ওর চাপ কমাতে আপফ্রন্টে রবার্তো ফিরমিনোকে
নিয়ে আসুক চিচ। লিভারপুলের এই স্ট্রাইকার খুব ভাল ছন্দে রয়েছে। আসলে ব্রাজিলের একজন ভাল স্ট্রাইকার প্রয়োজন। গ্যাব্রিয়েল জেসুস ভাল। কিন্তু
ও একা কার্যকরী হয়ে উঠতে পারছে না। চিচকে মাথায় রাখতে হবে কোস্টা রিকা পুরোদস্তুর রক্ষণাত্মক খেলে গোলের মুখ আটকে দেয়।
সেই দুর্ভেদ্য রক্ষণের জঙ্গল কাটতে না পারলে ব্রাজিলের কপালে দুঃখ আছে। কোস্টা রিকাকে বেকায়দায় ফেলতে ব্রাজিলকে পাল্টা আক্রমণের সাহায্য নিতেই
হবে। আজ নেমাররা একটা সুবিধে পেতে পারে। কোস্টা রিকা যেহেতু আগের ম্যাচ সার্বিয়ার কাছে হেরেছে। তাই বিশ্বকাপের দৌড়ে থাকতে হলে
ওদের ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচটি জিততেই হবে। সেজন্য কিছুটা হলেও আক্রমণের রাস্তায় হাঁটতে হবে কোস্টা রিকাকে। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাক
চিচ-বাহিনী। কোস্টা রিকা আক্রমণে উঠলে রক্ষণে যে ফাঁকটা তৈরি হবে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে গোল করুক ব্রাজিল। এতে বিপক্ষের চাপ আরও
বাড়বে। ওরা আরও ভুল করবে। এবার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে বেশির ভাগ বড় দলেরই ছন্দপতন হয়েছে। আর্জেন্তিনা, জার্মানি প্রতিটা টিমই কিন্তু
হোঁচট খেয়েছে। তা বলে ভাবার কারণ নেই যে, দ্বিতীয় ম্যাচেও একই ফল হবে। আমার বিশ্বাস, ব্রাজিল আজ কোস্টা রিকাকে হারাবে।
তবে এর জন্য ব্রাজিলের খেলার কিছু পরিবর্তন দরকার। নিজেদের বোঝাপড়া আরও বাড়াতে হবে। পাসগুলো নিখুঁত করতে হবে। খেলায় আরও গতি
আনতে হবে। সেই সঙ্গে ফিনিশিং-ও ঠিক মতো করতে হবে। সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রাজিল মন ভরাতে পারেনি। যদিও ওই ম্যাচে নেমারকে বারবার
ফাউল করে খেলার ছন্দটাই নষ্ট করে দিয়েছিল সুইসরা। সঙ্গে রেফারিংও ঠিক হয়নি। যাই হোক, সবমিলিয়ে কোস্টা রিকার বিরুদ্ধে অন্য ব্রাজিলকে
দেখার আশায় আজ থাকছি। (সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুলিখনঃ তানিয়া রায়) 