দেবজিতের জয় উৎসর্গ মাকে, সতীর্থদের সতর্ক করে দিলেন বিরক্ত সনি 
সবুজ-মেরুন আবির, সনি নর্দেদের নিয়ে স্লোগান আর মোহনবাগান পতাকার ভিড়ে আবারও হারিয়ে গেল লাল-হলুদ। শিলিগুড়ির পর এবার কটকে। লজ্জা,
হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে খেলা শেষ হওয়ার আগেই মাঠ থেকে বেড়িয়ে যেতে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। মাথা নিচু করে মাঠ
ছাড়েন মেহতাব হোসেন-অর্ণব মণ্ডল-ওয়েডসন আনসেলমে'রাও। এবারও ইস্টবেঙ্গল ট্রফিহীন! জোড়া ডার্বিতে হার! যখন একেবারে শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে লাল-হলুদ, তখন মোহনবাগান গ্যালারি
জুড়ে উচ্ছ্বাস আর উৎসবের রঙ। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতে না বাজতেই কটকের বরাবাটি স্টেডিয়ামে তীব্র শদ্বব্রহ্ম। আই লিগ হারানোর সব
যন্ত্রণা যেন এক মুহূর্তে ধুয়ে মুছে গেল সবুজ-মেরুনের। দেবজিৎ-সনি-ডাফিদের নিয়ে তখন শুধুই জয়ধ্বনি। ফেডকাপ ফাইনালের আগেই শুরু হয়ে গেল সেলিব্রেশন।
পর পর দু'টি ডার্বি জয়! আর মোহনবাগান সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর আসল নায়ক সেই দেবজিৎ মজুমদার। যাঁর দস্তানার মাঝেই আটকে
গেলেন প্লাজা-রফিকরা। টিমকে জেতাতে পেরে আপ্লুত মোহনবাগান গোলকিপারও। মাতৃদিবসের দিন তিনি এই জয়টা উৎসর্গ করলেন মাকে। বাসে ওঠার আগে বলে
গেলেন, আজকের দিনে এই জয়টা আমি মাকে উৎসর্গ করলাম। বাবা মারা যাওয়ার পর মা-ই দেবজিতের স্বপ্নপূরণের একমাত্র সঙ্গী। নিজে কষ্ট
করলেও ছেলের খেলায় তার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি তিনি। সনি আবার রবিবারের ডার্বিতে নিজের পারফরম্যান্সে একেবারেই সন্তুষ্ট নন। তবে তাঁর
স্বস্তি, আমি আটকে গেলেও টিমের বাকিরা যে ম্যাচ বার করে ফেলতে পারে সেটা আবার প্রমাণিত। যদিও ডাফির গোলটি সনির সেটপিস
থেকেই হয়েছে। এমনকী সনির একটি অসাধারণ ফ্রি-কিক যদি লাল-হলুদ গোলকিপার শুভাশিস রায়চৌধুরী নিজের সেরাটা দিয়ে না বাঁচাতেন তবে মোহনবাগানের গোলের
ব্যবধান বেড়ে ৩-০ হতো। ডার্বি জয়ের পর সনি সতীর্থদের সতর্ক করে বলেছেন, শুধু ডার্বি জিতলেই হবে না। ট্রফি পেতে হবে।
ডার্বি জিতেও আমরা কিন্তু আই লিগ হাতছাড়া করেছিলাম। ইস্টবেঙ্গল শিবিরে হাহুতাশ। যেভাবে প্লাজা'রা একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন,
তাতে আক্ষেপ করা ছাড়া উপায় কী! সাংবাদিক বৈঠকে তাদের সহকারী কোচ রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এত সুযোগ নষ্ট করলে ম্যাচ জেতা
যায় না।' 