মদ, মাংস কিছুই আর চলবে না, অযোধ্যায় আসবেন রাম ভগবান 
সোমবার উত্তরপ্রদেশে গোটা দিন কাটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনে দীর্ঘ সময় কাটালেন রাজ্যের সন্নযাসী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের
সঙ্গে। আর সেই দিনেই সামনে এল যোগী সরকারের এক নতুন পরিকল্পনা। অযোধ্যায় রামমন্দির বানানোর প্রস্তুতি যে গেরুয়া বাহিনী শুরু করেছে
তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছে। কয়েক দিন আগেই ফৈজাবাদ জেলার নাম বদলে রাখা হয়েছে অযোধ্যা। এবার সেই জেলার সর্বত্র মদের পাশাপাশি
মাংস ভক্ষণও নিষিদ্ধ করতে চলেছে যোগী সরকার। খবরে প্রকাশ, সিদ্ধান্ত পাকা। শুধু সরকারি ঘোষণাটুকুই বাকি। শুধু অযোধ্যা নয়, শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান
মথুরা ও উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য তীর্থস্থানেও মাংস ও মদ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমনই আপাতত ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে
আরও বেশ কিছু অঞ্চলকে শীঘ্রই তীর্থস্থান বলে ঘোষণা করতে পারে। তা হলে সেসব জায়গাতেও মাংস ও মদ নিষিদ্ধ করতে সুবিধা
হবে সরকারের। উত্তরপ্রদেশের বিদ্যুৎমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র শ্রীকান্ত শর্মা জানিয়েছেন, সরকার অযোধ্যায় মাংস ও মদ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। এখন
কেবলমাত্র অযোধ্যা শহরে মাংস ও মদ নিষিদ্ধ। কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধুসন্তরা আবেদন জানিয়েছেন, যে জেলায় রামের জন্মস্থান, তার
সর্বত্র মাংস ও মদ নিষিদ্ধ করা উচিত। শুধু তাই নয়, শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান মথুরাতেও মাংস ও মদ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন
অনেক সাধুসন্ত। সেই দাবিই পূর্ণ করতে চায় উত্তরপ্রদেশ সরকার। গত ৬ নভেম্বর যোগী সরকার ফৈজাবাদ জেলার নাম বদলে করে অযোধ্যা।
তার পরেই অযোধ্যার অস্থায়ী রামমন্দিরের প্রধান পুরোহিত সত্যেন্দ্র দাস এবং অন্যান্য সাধুসন্তদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই গোটা জেলায় মদ
ও মাংস নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে বলে জানা গিয়েছে। যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যে গো-মাংস নিষিদ্ধ করা এবং কসাইখানা
তুলে দেওয়া নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। এখন লোকসভা নির্বাচনের আগে রামমন্দির তৈরির প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারলেও সাধুসন্তদের মদ-মাংস নিষিদ্ধ করার
দাবি রাজ্য সরকার মেনে নিলে নিঃসন্দেহে তা নতুন রাজনীতি ও বিতর্কের জন্ম দেবে। একই সঙ্গে বহু মানুষের কর্মহানীর সম্ভাবনাও তৈরি
হবে। 