কোন মহিলার চাপে এগোলেন মুলায়ম? অথচ ছেলের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হলেন 
বাবা নেতাজী। মুলায়ম সিংহ যাদব। সমাজবাদী পার্টির সর্বোচ্চ নেতা। ছেলে টিপু। অখিলেশ যাদব। উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি পরিচালিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।
দলের ভিতর পরিবারের ক্ষমতার লড়াই এতদূর পৌঁছায় যে, ছেলেকেই দল থেকে বের করে দেন মুখ্যমন্ত্রী বাবা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার
ছেলেকে দলে ফিরিয়ে নিলেও পুরোপুরি সমঝোতা হয়নি তখনও। তাই পরের ২৪ ঘণ্টায় দেখা গেল অখিলেশ যাদব ২২৯ জন বিধায়কের মধ্যে
বেশির ভাগ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে শক্তি পশ্রন করে, বাবা মুলায়মকেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিলেন। নিজে সেই পদে
বসলেন। মুলায়ম-ঘনিষ্ঠ কাকা শিবপাল, অমর সিংহকেও দল থেকে বহিষ্কার করলেন। বাবা মুলায়ম বললেন, অখিলেশের ডাকা এই সভা অবৈধ। পাল্টা তিনি
দলের জাতীয় কনভেনশনের ডাক দেন আগামী ৫ জানুয়ারিতে। কিন্তু সোমবার সকালেই মুলায়ম-শিবির জানিয়ে দেয়, জাতীয় কনভেশন আপাতত বাতিল। তাঁরা আগামী
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেই মনোযোগ দিতে চান। বাস্তবে মুলায়ম পিছুই হটলেন। সূত্রের খবর, মুলায়ম তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সাধনা গুপ্তা ও
পূত্রবধু অপর্ণা সিংহের অঙ্গুলিহেলনেই অখিলেশকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সাধনার ছেলে প্রতীক যাদব রাজনীতি থেকে দূরেই থাকেন। কিন্তু প্রতীকের স্ত্রী অপর্ণাকে রাজনীতিতে
নামাতে চান শাশুড়ি সাধনা। কারণ তিনি চান না মুলায়মের পরে অখিলেশ সমাজবাদী পার্টির ক্ষমতায় আসুক। তাই সাধনাই কলকাঠি নাড়ছেন বলেই
খবর। সঙ্গে পেয়েছেন মুলায়মের ভাই শিবপালকে ও অমর সিংহকে। কিন্তু পাল্টা চালে অখিলেশ বাজিমাত করে দিয়েছেন। তাঁর সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক
ও নেতা-কর্মীদের উপস্থিত করিয়ে অখিলেশ দেখিয়ে দিয়েছেন তিনিই আসল নেতা। এই সুযোগে তিনি দলের রাশও হাতে নিয়েছেন। মুলায়মের পাশে বেশি
নেতা-কর্মী না থাকায় শুধু ছোট বউ-কে খুশি করতে গিয়ে তিনি আর লজ্জায় পড়তে চান না। তাই জাতীয় কনভেনশন বাতিল করেই
দিয়েছেন। তবে নাটকের এটাই শেষ নয়। শোনা যাচ্ছে এবার অখিলেশ নির্বাচন কমিশনে যাবেন। তিনিই যে সমাজবাদী পার্টির বৈধ নেতা, তা
প্রমাণ করতে। মুলায়ম শিবির আপাতত পিছু হটলেও, লড়াই ছেড়ে এখনই বেরিয়ে যাচ্ছেন না। তাই সমাজবাদী-নাটক এখনও বাকি। 