মোদীর 'কার্পেট বম্বিং' শুরু হল, টার্গেট চূড়ান্ত করে হাতে ৫ অস্ত্র 
হাতে আর দুই সপ্তাহও নেই। গুজরাত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৯ ডিসেম্বর। সোমবার থেকে শেষ পর্বের নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী।
যে রাজ্য থেকে তিনি গুজরাত মডেলের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেই রাজ্যেই তাঁর প্রেস্টিজের লড়াই। একদিকে, দলিত, আদিবাসী ও
পাতিদারদের আন্দোলন, অন্যদিকে, জিএসটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের চাপ। জোড়া চাপকে কাজে লাগিয়ে অনেক আগেই মাঠে নেমে পড়েছে কংগ্রেস। নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ-সভাপতি
রাহুল গাঁধী স্বয়ং। কোনও জনমত সমীক্ষা যদিও বলছে না বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হবে গুজরাত থেকে। তবু কয়েকটি আসন কমে গেলেও 'হার'
হবে মোদীরই। কিন্তু যে উন্নয়নের জন্য তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন, সেই কথাই মোদীর নির্বাচনী প্রচারের বক্তব্যে শেষ সারিতে চলে গিয়েছে। তাহলে
কোন অস্ত্রকে হাতিয়ার করছেন নরেন্দ্র মোদী? রাহুল গাঁধীকে আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু করছেন মোদী। রাহুলের টুইটের জবাব দিচ্ছেন নাম না
করেই। টেনে আনছেন কংগ্রেস সহ-সভাপতির প্রসঙ্গও। ভুজের সভা থেকে রাহুলকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন, আপনি তো চিনের রাষ্ট্রদূতকে জড়িয়ে ধরেই খুশি।
হাফিজ সইদ ছাড়া পেতেই হাততালি দিচ্ছেন। কিন্তু ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে সম্মান জানাতে পারেন না। কেন এই নিয়ে কথা বলতে
গেলেন? চুপ করে থাকলেই তো পারতেন। গুজরাতি অস্মিতাকেও মোদী বারে বারে ফিরিয়ে আনছেন নিজের বক্তব্যে। তিনি বলছেন, কংগ্রেস ও
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু গুজরাতের জন্য কিছুই করেননি। মোদী বলছেন, গুজরাত আমার আত্মা। ভারত আমার পরমাত্মা। আমি গুজরাতের ছেলে,
যদি আপনাদের ছেলেকে কেউ অপমান করেন, তাহলে কী আপনি তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন? এই বিষয়ে অন্যান্য খবর মোদীর 'ছাল-চামড়া' গুটিয়ে
নেওয়ার হুমকি লালু-পুত্রের, আসরে নামলেন বাবা দেশের রাজনীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত, পুরনো প্রসঙ্গ সামনে আনলেন মোদী নিজের 'চাওয়ালা' ইমেজকেও
ব্যবহার করছেন নিজের স্বার্থে। কয়েকদিন আগেই যুব কংগ্রেসের মুখপত্রের টুইটার হ্যান্ডেলে মোদী ও চা বিক্রেতার চরিত্র নিয়ে কুৎসিত মিম প্রকাশ
করা হয়েছিল। সেই ব্যঙ্গচিত্রের প্রসঙ্গকে হাতিয়ার করে মোদী বলেন, আমার অতীতের দারিদ্রের জন্য আমাকে কংগ্রেস অপছন্দ করে। কোনও পার্টি এতটা
নিচে নামতে পারে? দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইতে কংগ্রেসের ক্ষতি হয়েছে বলেই নোটবাতিলের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস। এমন আক্রমণই শানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতির
বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইতে স্বাভাবিক ভাবেই কংগ্রেসের বিপদ হয়েছে, বলছেন মোদী। বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মোদী। ঝালাই করে নিচ্ছেন
পুরনো সম্পর্ক। যে সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মগুরুদের প্রভাব রয়েছে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসছেন নিজের
কাজের কথাও। কংগ্রেসের নরম হিন্দুত্বের জবাব এভাবেই দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আগের নির্বাচনগুলির মতো এখনও ধর্মীয় মেরুকরণের প্রচার তেমন হাওয়া পায়নি
গুজরাতের নির্বাচনী প্রচারে। গত এক মাস ধরে গুজরাতে ঘুরে ঘুরে গ্রাউন্ডওয়ার্ক সেরেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। চিহ্নিত করেছেন সেই সব
জায়গা যেখানে মোদীর সভা করার দরকার রয়েছে। এবার মোদী নেমেছেন রণক্ষেত্রে। সোমবার কচ্ছ, রাজকোট, আমরেলি জেলার পরে সুরাতে সভা করেন
মোদী। নির্বাচনের আগে অন্তত ৫০টি সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও কংগ্রেস পাল্টা অভিযোগ করছে যে, নরেন্দ্র মোদী নিজের প্রতি সমবেদনার ভোট
টানতে মিথ্যে কথা বলছেন, কিন্তু গুজরাতের লড়াই যে মোদীর বিরুদ্ধেই, তা বিলক্ষণ জানেন কংগ্রেস নেতৃত্বও। 