আদালতে ৭০ মিনিট ধরে জেটলির বয়ান 
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল এবং আম আদমি পার্টির (আপ) পাঁচজন নেতা তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ করেছেন
বলে আজ আদালতে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ, দিল্লির প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত থেকে
নজর ঘোরাতেই তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ করা হয়েছে। দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন'এ (ডিডিসিএ) দুর্নীতির বিষয়ে দিল্লির
পাটিয়ালা হাউস আদালতে জেটলির বয়ান ৭০ মিনিট ধরে নথিভুক্ত করা হয়। শুনানি হয়েছে আড়াই ঘণ্টার। কেন্দ্রীয় শক্তিমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, বিজেপি'র
মুখপাত্র নলিন কোহলি-সহ প্রচুর দলীয় সমর্থককে নিয়ে আজ বেলা ১টা ৫৬ মিনিটে পাটিয়ালা হাউস আদালতে পৌঁছন জেটলি। দুপুর ২টো নাগাদ
তিনি আদালত কক্ষে ঢোকেন। সেখানে আজ অবশ্য সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় খনাগবালের সামনে জেটলি তাঁর বক্তব্য
নথিভুক্ত করান। প্রসঙ্গত, ড়িডিসিএ-র প্রধান থাকাকালীন জেটলি আর্থিক অনিয়ম করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন কেজরী। সূত্রের খবর, জেটলি জানিয়েছেন, দিল্লির ফিরোজ
শাহ কোটলা স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। স্টেডিয়াম নির্মাণে তত্ত্বাবধানের
জন্য ডিডিসিএ'র বোর্ড অফ ডিরেক্টর একটি কমিটি গঠন করেছিল। জেটলির দাবি, তিনি ওই কমিটিতে ছিলেন না। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে সম্প্রতি
তল্লাশি চালায় সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার তরফে বলা হয়েছিল, দিল্লির প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্যই ওই তল্লাশি।
জেটলি আজ দাবি করেন, ওই আমলার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালতে তিনি
জানিয়েছেন, ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও কেজরী-সহ ছ'জন 'আপ' নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ওই
নেতাদের প্রতিটি পোস্ট এবং টুইটের প্রতিলিপি আদালতে জমা দেন জেটলি। ডিডিসিএ মামলায় প্রবীণ সাংবাদিক রজত শর্মার বয়ানও আজ নথিভুক্ত করা
হয়েছে। সাক্ষী হিসাবে ডাকা হতে পারে আরেক প্রবীণ সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্তকে। আদালত জানিয়েছে, বাকি সাক্ষীদের বয়ান নথিভুক্ত করা হবে আগামী
৩ ফেব্রুয়ারি। 