বঙ্গে প্রচারে কানহাইয়া। ১০ অথবা ১৪ মার্চ রাজ্যে আসার সম্ভাবনা 
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের হয়ে প্রচার করতে আগামী ১০ অথবা ১৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারেন কানহাইয়া কুমার। আগামী ১১
থেকে ১৩ মার্চ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের সভাপতির কেরলে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা। সিপিআইয়ের ছাত্র সংগঠন 'অল
ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশনে'র (এআইএসএফ) রাজ্য সম্পাদক শুভম বন্দ্যোপাধ্যায় আজ 'এবেলা'কে ফোনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্পাদক বিশ্বজিৎ কুমারের সঙ্গে
কথা হয়েছে। উনি জানিয়েছেন, ১১ থেকে ১৩ মার্চ কানহাইয়া কেরলে প্রচার করবেন। তার আগে, ১০ তারিখে তিনি কলকাতায় আসতে পারেন।
কর্মসূচি পাল্টালে হয়তো ১৪ তারিখে ওঁকে দেখতে পাবে কলকাতা। শুভম জানিয়েছেন, কেরল সফর শেষ করে কলকাতায় এলে কানহাইয়া টানা দু'তিন
দিন এ রাজ্যে থাকতে পারেন। কানহাইয়ার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়টি যত চর্চিত হচ্ছে, তাঁর প্রতি সঙ্ঘ পরিবারের অসহিষ্ণুতাও ততই বাড়ছে।
উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁতে বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি কুলদীপ বর্শনয় গতকালই ঘোষণা করেছিলেন, কেউ কানহাইয়ার জিভ কেটে নিতে পারলে তিনি পাঁচ লক্ষ
টাকা পুরস্কার দেবেন। যদিও ওই ঘোষণার পরেই তাঁকে ছ'বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। পাশাপাশি,
নয়াদিল্লির বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে কয়েকটি পোস্টার। যাতে কানহাইয়াকে খতম করতে পারলে ১১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিতর্কিত এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য খ্যাত বিজেপি সাংসদ যোগী আদিত্যনাথ আজ কানহাইয়ার সঙ্গে মহম্মদ আলি জিন্নার তুলনা টেনে সাংবাদিকদের বলেন,
জেএনইউ মে জিন্না পয়দা নেহি হোনে দেঙ্গে। অগর হুয়ে তো উনহে দফনায়েঙ্গে (জেএনইউয়ে জিন্না জন্মাতে দেব না। যদি জন্মায় তাহলে
তাকে কবর দেব)। উল্লেখযোগ্য, এর মধ্যেই কানহাইয়ার প্রশংসা করেছেন পটনাসাহিবের বিজেপি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। কানহাইয়ার গত পরশুর বক্তৃতার প্রশংসা করে
সংবাদসংস্থা পিটিআই'কে তিনি বলেন, কানহাইয়ার কথায় দেশবিরোধী কিছু পাইনি। তার উপরে ও বিহারের ছেলে। বিহার আমার শক্তি, আমার দুর্বলতাও বটে।
এরইমধ্যে 'নিরাপত্তা'র কারণে কানহাইয়ার গতিবিধির উপরে জেএনইউ কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে বলেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষকে লেখা চিঠিতে দিল্লি পুলিশের ডিসি (সাউথ) প্রেম
নাথ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কানহাইয়ার গতিবিধি সম্পর্কে সব তথ্যই যেন সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়। যাতে কোনওরকম অবাঞ্ছিত ঘটনা আগে থেকেই
এড়ানো যেতে পারে। কানহাইয়া ক্যাম্পাসের বাইরে বেরোলেও তাঁর সঙ্গে পুলিশ রাখার কথা বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। বিভিন্ন মহলে চর্চা চলছে,
পুলিশ পরিবৃত হয়েই কি নির্বাচনী প্রচার করবেন কানহাইয়া? অন্য ভিভিআইপি'দের মতো! 