পরলোক থেকে ভোট দিতে এলেন! হতবাক নির্বাচন কর্মীরা 
রবীন্দ্রনাথের 'জীবিত ও মৃত' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কাদম্বরীকে মরিয়া প্রমাণ করতে হয়েছিল যে সে মরে নাই। কিন্তু উত্তর প্রদেশের
লাল্লা দেবী কী ভাবে প্রমাণ করবেন, তিনি মৃত নন, সেটা বলা দুরূহ। উত্তর প্রদেশের পুরনির্বাচনে নিজের বেঁচে থাকা প্রমাণ করতে
হিমশিম খেতে হয়েছে এই ৯৫ বছরের বৃদ্ধাকে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বেশ কিছু মানুষ লাল্লা দেবীকে মৃত বলেই ঘোষণা করেছিল।
লখনউয়ের সীতাপুর রোড অঞ্চলের একটি জমি নিয়ে বিবাদের ফল এই 'মৃত্যুঘোষণা'। কিন্তু সশরীরে এই বৃদ্ধা এসে হাজির পূর্ণিয়া আলিগঞ্জের হাজারি
লাল স্কুলের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। লাল্লা দেবীর বক্তব্য - কারা যেন রটিয়ে দিয়েছে, তিনি মারা গিয়েছেন। কিন্তু তিনি যে বেঁচে আছেন,
এটা প্রমাণ করতেই তিনি ভোট দিতে এসেছেন। কেন 'মরতে' হয়েছিল লাল্লা দেবীকে? এর উত্তরও পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে লাল্লা দেবীর
ভাই লখনউয়ের গাল্লা মান্ডি অঞ্চলে একটা জমি কিনে যান। কিন্তু কেউ সেই জমির মালিকানা আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায়। এই বিষয়টা নিয়ে
ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিযেই লাল্লা দেবীর ভাইয়ের নাতি সঞ্জয় দেখতে পান, থানার নথিতে তাঁর পিসিঠাকুমাকে 'মৃত' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সঞ্জয়
এই ঘোষণার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। জীবীত মানুষকে মৃত বলে ঘোষণা যারা করেছে, তারা আইনের দ্বারা সাজা পাক - এই
তাঁর বক্তব্য। লাল্লা দেবীর কাছে শেষমেশ রাষ্ট্রই ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। গণতন্ত্রের ছাতার তলায় দাঁড়িয়ে আঙুলে নির্বাচনের কালি লাগিয়ে তাঁকে প্রমাণ
করতে হল, তিনি মরেন নাই। 