খতিয়ে দেখা হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহ আইন। জানালেন রাজনাথ 
'দেশবিরোধী' স্লোগান-কাণ্ডে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) কয়েকজন পড়ুয়ার গ্রেফতারির ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত আইন অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কেরলের সিপিএম সাংসদ
এম বি রাজেশ আজ বিষয়টি উত্থাপন করে কেন্দ্রের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছিলেন, সরকার এ বিষয়ে অবগত আছে কি না। জবাবে
রাজনাথ জানান, ওই আইনের নির্দিষ্ট কয়েকটি ধারা চিহ্নিত করেছে আইন কমিশন। সেগুলি সংশোধনের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
হরিভাই পারথিভাই চৌধুরী পরে জানান, ১৮৬০ সালে আনা রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটি বর্তমানে কতটা সময়োপযোগী, তা খতিয়ে দেখার জন্য আইনমন্ত্রক বছরকয়েক আগে
কমিশনকে অনুরোধ করেছিল। মন্ত্রীর কথায়, ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর আইন কমিশন সরকারকে জানিয়েছিল, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন
রয়েছে বলে কমিশন চিহ্নিত করেছে। কমিশনের সদস্যেরা একাধিক উপদলে ভাগ হয়ে ওই আইন সংশোধনের কাজ করছেন। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রদ্রোহ-আইন সংশোধন করার
প্রয়োজন রয়েছে কি না, সুপ্রিম কোর্টের গড়ে দেওয়া জুরিও ইতিমধ্যে তা খতিয়ে দেখছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান
দিলেই তা রাষ্ট্রবিরোধিতা বলে গণ্য হওয়া উচিত নয়। তার সঙ্গে হিংসার ঘটনা রয়েছে কি না, তা-ও দেখতে হবে। তার প্রেক্ষিতে
ওই আইনে ব্যবহৃত শদ্ববন্ধগুলি খতিয়ে দেখছেন জুরি সদস্যেরা। পাটিয়ালা আদালত চত্বরে তাঁর উপর হামলার পরদিন, ১৮ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে
চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছিলেন জেএনইউ'র ছাত্রসংসদ সভাপতি কানহাইয়া। চার পৃষ্ঠার সেই চিঠিটি আজ প্রকাশ্যে এসেছে। ওই চিঠিতে কানহাইয়ার অভিযোগ, গত
১২ ফেব্রুয়ারি জেএনইউয়ের হস্টেল থেকে পুলিশ কোনও পরোয়ানা কিংবা আগাম নোটিস ছাড়াই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। এমনকী, পুলিশ তাঁর সম্মতি ছাড়া
তাঁকে দিয়ে বিবৃতি লিখিয়ে নিয়েছিল। পরে পুলিশ সেটি আদালতে পেশ করে। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় তাঁর উপর মানসিক নির্যাতন চালানো
হয়েছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ কানহাইয়ার। হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশ তাঁর পার্স, এটিএম কার্ড কেড়ে নেয়। এমনকী, ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডও
তারা জেনে নিয়েছে বলে ওই ছাত্রনেতার অভিযোগ। আগামিকাল দিল্লি হাইকোর্টে কানহাইয়ার জামিনের আবেদনের শুনানি। জেএনইউ কাণ্ডে ধৃত অন্য দুই ছাত্রনেতা
উমর খালিদ এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে আজ ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে নিম্ন আদালত। এদিকে, জেএনইউয়ে স্লোগানের ঘটনার পর বেশ
কিছু ভিডিও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে ভাইরাল হয়। দিল্লির সরকার এমন সাতটি ভিডিও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে দু'টি ভিডিও
'নকল' বলে একটি সূত্রে খবর। ওই দু'টি ভিডিও কাটছাঁট করা হয়েছিল। এমনকী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এমন কারও কণ্ঠস্বরও সেগুলিতে
যোগ করা হয়েছে। 