যোগ-শিল্পে কর্মসংস্থানের বার্তা মোদীর! চেয়ারযোগ মন্ত্রী উমার 
তেলেভাজা-শিল্পের কথা বলে গত জমানায় নিন্দিত হয়েছিলেন 'দিদিভাই' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ যোগ-শিল্পের কথা শোনালেন মোদীভাই! আজ দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক
যোগদিবসে চণ্ডীগড়ে যোগাভ্যাসের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, যোগ বড় ধরনের পেশায় পরিণত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যোগপ্রশিক্ষকদের চাহিদা বাড়ছে। যুবকদের জন্য
কর্মসংস্থানের এ এক বড় সুযোগ। বিভিন্ন দেশে ২৪ ঘণ্টার যোগ-চ্যানেল শুরু হয়েছে। এ হল কোটি কোটি টাকার শিল্প। কর্মসংস্থানের সুযোগ
তৈরি করা অবশ্যই এনডিএ সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষিতে মোদীর মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কিঞ্চিৎ কৌতুকের সৃষ্টি করেছে। আগামিবছর যোগদিবস
থেকে দু'টি পুরস্কার চালু হবে বলেও আজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। চণ্ডীগড়ের ক্যাপিটল কমপ্লেক্সে সকাল পৌনে ৭টা থেকে প্রায় আধ ঘণ্টা
বক্তৃতা করেন মোদী। বলেন, যোগ কোনও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারপর ৪৫ মিনিট শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে, হেলে, ঝুঁকে - নানা
বিভঙ্গে নানাধরনের যোগাসন করেন। সারি সারি লাল এবং গোলাপী ম্যাটে শুয়ে-বসে তাঁকে অনুকরণ করেন ৩০ হাজার যোগপ্রেমী। মোদীর পোশাকি বৈশিষ্ট্য
ছিল সাদা টি-শার্ট, সাদা ট্র্যাক প্যান্টস, সাদা স্পোর্টস শু। সঙ্গে সাদা জমিতে নানা রঙের নকশাদার কালো পাড়ের স্কার্ফ। টেনশনস্পৃষ্ট আধুনিক
জীবনে যোগ কীভাবে স্বস্তি আনতে পারে, তা বিশদে বুঝিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন নিজেই একের পর এক আসন করে দেখাচ্ছেন, তখনই ভেসে
উঠেছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিটুইট - '(নৌবাহিনীতে) রণতরীতে উষ্ট্রাসন শুরু হয়ে গিয়েছে'। শুধু কি নৌবাহিনী! দ্বিতীয় যোগদিবসকে অদ্বিতীয় করতে মোদীর সঙ্গে যোগাসনে
পাল্লা দিয়েছেন তাঁর ৫৭ জন মন্ত্রী! বৃষ্টি মাথায় করে লখনউয়ে যোগাসন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ভোপালে লাল প্যারেড গ্রাউন্ডের
মঞ্চে গুটিকয়েক আসন করেই মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি জানিয়েছেন, যোগই প্রাচীন এবং আধুনিক যুগের 'যোগসূত্র'। জয়পুরে পাশাপাশি দেখা গিয়েছে রাজস্থানের
মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতীকে। যোগের সময়ে উমা অবশ্য আজ চেয়ার ছাড়েননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দকেরা এটিকে 'চেয়ারযোগ'
বলে কটাক্ষ করেছেন। দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যোগাসন করেন এক হাজার জন। ভারতীয় বাহিনী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাভ্যাস করেছে দেশে এবং বিদেশে,
স্থলে এবং জলে। সিয়াচেনে ভারতীয় সেনার যোগাভ্যাসের ছবি জনপ্রিয় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধু ভারত নয়, বহু দেশের রাস্তায় দেখা গিয়েছে
সারি সারি যোগারূঢ় আবালবৃদ্ধবনিতাকে। যোগে মেতেছে রাষ্ট্রপুঞ্জও। তবে অন্তরীক্ষে, অর্থাৎ উড়ন্ত বিমানে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে যোগদিবস পালিত হয়েছে কি
না, কোনও সংবাদমাধ্যম সে খবর দিতে পারেনি। এ সবের মধ্যে যোগ নিয়ে রাজনৈতিক আকচাআকচিও হয়েছে। পুদুচেরিতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদীর
যোগাসন অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী এবং তাঁর মন্ত্রীরা। কিরণ অবশ্য বলেছেন, যোগদিবসে রাজনীতি নয়। আমি মনপ্রাণ দিয়ে আমার
দায়িত্ব পালন করছি। প্রায় ছ'হাজার স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াকে নিয়ে আজ যোগাভ্যাস করেছেন কিরণ। তার ফাঁকে তুলেছেন সেলফিও। 