খোদ দিল্লির এই প্রাসাদ মানুষকে আত্মহননে প্ররোচনা দেয়... 
রাজধানী দিল্লির হার্টল্যান্ড কনট প্লেসের কাছেই হেইলি রোডে বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই প্রাসাদ। অগ্রসেন কি বাওলি নামে পরিচিত
এই প্রাসাদটি আজ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার দ্বারা সংরক্ষিত একটি স্মারক। সত্যি বলতে, ১৪ শতকে নির্মিত এই প্রাসাদের ছিরিছাঁদ তাকিয়ে
দেখার মতোই। একে 'প্রাসাদ' বললেও এর আসল জায়গাটা একটা সুবিশাল কূপ। তার মধ্যে ধাপে ধাপে সিঁড়ি নেমে গিয়েছে। লোক-বিশ্বাস, 'মহাভারত'-বর্ণিত
রাজা উগ্রসেনের প্রাসাদ ছিল এই জায়গায়। পরে ১৪ শতকে আগরওয়াল সম্প্রদায় এই স্মারক দেউড়িটি নির্মাণ করে। কারণ, এই সম্প্রদায়ের মতে,
অগ্রসেন বা উগ্রসেনই তাঁদের বীজপুরুষ। সে যাই হোক, দিল্লির মতো এক প্রাচীন শহরে এমন হাভেলি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। অবশ্য অগ্রসেন
কি বাওলি-র খ্যাতি, থুড়ি কুখ্যাতি সম্পূর্ণ অন্য কারণে। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, বাওলির ভিতরে এমন কিছু রয়েছে, বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা পাওয়া
অসম্ভব। বাওলি বা কূপটি আয়তাকার। ৬০ মিটার লম্বা এবং ১৫ মিটার চওড়া। একে ঘিরেই সারি সারি ঘর। কিছুকাল আগে পর্যন্ত
বাওলিতে জল ছিল। সম্প্রতি তা শুকিয়ে গিয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে একেবারে তলায় নেমে যাওয়া যায়। যত নীচে নামা যায়, তত বড়তে
থাকে থমথমে নৈঃশদ্বয। একটা-দু'টো পায়রার ঝটপট হঠাৎ হঠাৎ চমকে দিয়ে যায়। ভয় আরও গাঢ় হয় যদি জানা যায় এই বাড়ির
গোপন কথা। একথা পুরনো দিল্লির অনেকেই বলে থাকেন, কোনও এক সময়ে এক কালো তরলে নাকি ভরে গিয়েছিল বাওলি-র গর্ভ। কী
সেই তরল, তা জানা নেই। কিন্তু সেই তরলের কাছে গেলে কেমন একটা অনুভূতি হত। সম্মোহনের মতো কিছু একটা ঘটত। অনেকেই
সেই কুহকে নেমে যেতেন সেই কালো তরলের দিকে। এভাবেই সেখানে আত্মহত্যা করেছেন অনেকে। তার পরে একদিন সেই কালো তরল উধাও
হয়। খটখটে শুকনো পড়ে থাকে বাওলি। কিন্তু সেই আত্মারা নাকি আজও আসে। হানা দেয় বাওলির শুকনো হাওয়ায় ভেসে। দিনমানে প্রেমিক-প্রেমিকারা
এখানে আড্ডা দিলেও সন্ধে ঢললে কেউ আর সাহস করেন না এখানে থাকতে। আরও পড়ুন সত্যিই কি ভুতুড়ে স্টেশন বেগুনকোদর? দেখুন
ভিডিও বাড়িতে ভূত আছে কী করে বুঝবেন? 