কালো টাকার বিরুদ্ধে নতুন জেহাদ! নজরে রাজনৈতিক দলে অজ্ঞাতপরিচয় চাঁদা! 
কালো টাকার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জেহাদ অব্যাহত। কেন্দ্রের এই কর্মকাণ্ডে এবার নজরে রাজনৈতিক দলগুলিতে দেওয়া ডোনেশন। প্রত্যেকটি দলই প্রচুর টাকা
ডোনেশন পেয়ে থাকে সমাজের নানা স্তরের ব্যক্তিদের থেকে। এর মধ্যে একেবারে সাধারণ মানুষও যেমন আছেন, তেমনই বহু ব্যবসায়ীও রয়েছেন যাঁরা
এই ডোনেশনের মাধ্যমে নিজেদের প্রচুর পরিমাণ কালো টাকার গতি করে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিচয় গোপন করে, বেনামে বা 'অজ্ঞাতপরিচয়' তকমায়
চাঁদাগুলি দেওয়া হয়। এতদিন এই ধরনের 'অজ্ঞাতপরিচয়' চাঁদার ঊর্ধ্বসীমা ছিল ২০,০০০ টাকা। আর বেশিদিন যে তা থাকবে না, সেই ইঙ্গিতই
পাওয়া গিয়েছে ইলেকশন কমিশনের থেকে। সম্প্রতি কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব এনেছে, যার সারমর্ম হল এই ধরনের চাঁদার ঊর্ধ্বসীমা
কমিয়ে ২০০০ টাকা করতে হবে। স্বনামে চাঁদা দিলে তা লিপিবদ্ধ করতে হয় ট্যাক্স রিটার্নের সময় অর্থাৎ সেই টাকা নগদে দিলেও
তা ঘোষিত সম্পদ। কিন্তু অজ্ঞাতপরিচয়ে চাঁদা মানেই কে এই টাকা দিচ্ছেন তা বোঝার কোনও উপায় নেই। অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয়
যে একজন স্বনামে ৫০ শতাংশ চাঁদা দিলেন আর বাকি ৫০ শতাংশ অজ্ঞাতপরিচয় তকমায় দিলেন। আবার অনেকেই সম্পূর্ণতই নিজেদের পরিচয় গোপন
করে চাঁদা দিয়ে থাকেন। ডোনেশনের খাতায় তাঁদের নাম কখনওই আসে না, কেউই জানতে পারেন না যে তাঁর টাকা জমা পড়ে
গেল পার্টি ফান্ডে এবং পার্টি ফান্ডে সেই টাকা জমা পড়া মানে আর সেই টাকা কালো নয় কারণ প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকেই
তাদের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান দিতে হয়। দেখা গিয়েছে যে একাধিক রাজনৈতিক দল তাদের আয়ের ৮০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশই অজ্ঞাতপরিচয়ের চাঁদা
সূত্রে প্রাপ্ত বলে দেখায়। আরও পড়ুন সমবায় ব্যাঙ্কে জমা পড়া কোটি কোটি বাতিল নোটের এখন কী হবে? জেনে নিন... বাতিল
নোটে কেনা হয়েছে ২৭০০ কোটি টাকার সোনা! অথচ এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। তাই অজ্ঞাতপরিচয় চাঁদার আড়ালে প্রচুর পরিমাণ কালো
টাকার সদগতি করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই ধারণা নির্বাচন কমিশেনের। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নতুন ঊর্ধ্বসীমা লাগু করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
যদি সত্যিই ঊর্ধ্বসীমা কমে ২০০০ টাকা করা হয়, তবে বহু মানুষের স্বার্থে যে আঘাত আসতে পারে তা বলাই বাহুল্য। 