ছাত্রীকে অবাক শাস্তি শিক্ষিকার, ঢুকিয়ে দেওয়া হল ছেলেদের টয়লেটে 
মেয়েটি ভাবতেও পারেনি, বিনা ইউনিফর্মে স্কুলে যাওয়ার জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করে আছে তার জন্য। ক্লাসে ঢোকার মুখে স্কুলের
নির্ধারিত পোশাক না পরার জন্য তাকে কড়া জেরা করতে থাকেন শারীর শিক্ষার শিক্ষিকা প্রিয়ঙ্কা। কেবল বকাঝকাতেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাবে
বলে হয়তো ভাবছিল পঞ্চম শ্রেণির মেয়েটি। কিন্তু এর পরই তাকে দেওয়া হল চরম শাস্তি। স্কুলের দোতলায় অবস্থিত ছেলেদের টয়লেটে তাকে
ঢুকিয়ে দিলেন ওই শিক্ষিকা! হায়দরাবাদের এক প্রাইভেট স্কুলের এমনই 'অমানবিক' শাস্তির ঘটনার কথা সামনে আসতেই সাড়া পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১ বছরের মেয়েটি সেদিন স্কুল থেকে ফিরেই কাঁদতে শুরু করে। স্বাভাবিক ভাবেই অভিভাবকরা সকলেই
আশঙ্কিত হয়ে পড়েন। সারা রাত ধরে কাঁদার পরেও মেয়েকে সামলাতে পারেনি বাড়ির লোক। সে কাঁদতে কাঁদতে কেবল এটাই বলতে থাকে,
সে আর এই স্কুলে যাবে না। অন্য স্কুলে ভর্তি হবে। এর পরই সামনে আসে পুরো ঘটনা। মেয়ের হেনস্থার কথা জানতে
পারেন অভিভাবকরা। জানা যায়, সেদিন ইউনিফর্ম না পরার কারণ হিসেবে সে জানিয়েছিল, ওটা কাচতে দেওয়া হয়েছে। তাই অন্য পোশাক পরেই
আসতে হয়েছে তাকে। জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে দোতলায় ছেলেদের টয়লেটে নিয়ে গিয়ে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখেন ওই শিক্ষিকা। বেশ কিছুক্ষণ
সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে সে। তাকে দেখে চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র হাসতে থাকে। গোটা ঘটনায় লজ্জা ও অস্বস্তিতে ক্রমে মানসিক ভাবে
অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে ওই ছাত্রী। অনেকক্ষণ পরে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তাকে আবার ক্লাসে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই শিক্ষিকা
আরও ৩ জন শিক্ষককে ডেকে গর্ব করে বলতে থাকেন ছাত্রীকে দেওয়া অভিনব শাস্তির কথা। গোটা ঘটনায় রীতিমতো বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবারে অন্ধ্রপ্রদেশ শিশু অধিকার সমিতি, রাজ্য মানবাধিকার কমিশন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলে তেলেঙ্গানা সরকার ঘটনাটির তদন্ত করার
নির্দেশ দিয়েছে। ওই দিনই এক ছাত্র ইউনিয়ন স্কুলের সামনে ঘটনাটির তদন্ত চেয়ে বিক্ষোভ পশ্রন করে। 