কালাহান্ডির পর বালাশোর। কাঁধের পর এবার বাঁশে ঝুলিয়ে নিয়ে যেতে হল দেহ 
বুধবার কালাহান্ডিতে স্ত্রীর দেহ কাঁধে হেটে যাচ্ছেন দানা মাঝি বৃহস্পতিবার গোটা দেশের সংবাদমাধ্যমে ছেয়ে গিয়েছিল দানা মাঝির এই ছবি।
বছর বারোর মেয়েকে সঙ্গে করে স্ত্রীর দেহ কাঁধে নিয়ে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটেছিলেন কালাহান্ডির দানা মাঝি। কারণ, হাসপাতাল থেকে বাড়ি
পর্যন্ত স্ত্রী-র দেহ নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্সের অর্থ তাঁর কাছে ছিল না। কিন্তু, বহুদিন আগেই নবীন পট্টনায়েক 'মহাপ্রয়াণ' বলে একটি প্রকল্প
চালু করেছেন। এতে, ওড়িশার ৩০টি জেলা হাসপাতাল এবং ৩টি মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিনা অর্থে অ্যাম্বুলেন্স মেলার কথা। কিন্তু, দানা মাঝি
সেই সাহায্য না পেয়ে কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন স্ত্রীর দেহ। কালাহান্ডির এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ঘটনা সামনে
এল। এবারের ঘটনাস্থল ওড়িশারই বালাশোর। ট্রেনের ধাক্কায় মৃত প্রৌঢ়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে যা করা হল, তা চরম বর্বরতার
সামিল। বুধবার সকালে বালাশোরের সোরো রেলওয়ে স্টেশনে মালগাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় বছর আশির সালামানি বেহরার। জিআরপি তাঁর দেহ নিয়ে যায়
সোরো কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে। কিন্তু, ১২ ঘণ্টা কেটে গেলেও অ্যাম্বুলেন্স না-থাকায় ময়নাতদন্তের জন্য দেহ বালাশোর জেলা হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল
না। শেষমেশ রেলের গ্রুপ ফোর দুই কর্মীকে দেহটি বাঁশে ঝুলিয়ে ৩০ কিলোমিটার দূরে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে জিআরপি। কিন্তু,
দেহ বাঁশে ঝোলানোর আগে, গ্রুপ ফোর দুই কর্মী দেহের উপর দাঁড়িয়ে পায়ের চাপ দিয়ে নিতম্বের হাড় ভেঙে দেন। এরপর দেহ
পলিথিনে মুড়ে বাঁশে ঝুলিয়ে ৩০ কিলোমিটার দূরে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোরো জিআরপি-র সাব ইনস্পেক্টর প্রতাপ রুদ্র মিশ্রর দাবি,
অ্যাম্বুলেন্স না-মেলায় এক অটোচালককে দেহ সোরো স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু, ওই অটো চালক এর জন্য ৩৫০০ টাকা
ভাড়া দাবি করেন। পরিকল্পনা ছিল, সোরো স্টেশন থেকে দেহ ট্রেনে চাপিয়ে বালাশোর নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু, অটোতে দেহ নিয়ে যাওয়ার
জন্য সর্বাধিক ১০০০ টাকা মঞ্জুর করার নিয়ম আছে। তাই উপায় না পেয়ে বাঁশে করে দেহ ঝুলিয়ে নিয়ে যেতে দুই গ্রুপ
ফোর কর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। শবের নিতম্বের হাড় না ভেঙে দিলে পলিথিন মোড়াতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই গ্রুপ ফোর কর্মীরা নিতম্বের
হাড় ভেঙে দেন। এই ঘটনার সময় সেখানে হাজির ছিলেন না মৃতা বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁরা এই বর্বরতার কথা জানতে
পেরে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। জিআরপি-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের হুমকি দিয়েছেন মৃতার ছেলে। এদিকে, ঘটনার কথা জানতে পেরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ
দায়ের করেছে ওড়িশা মানবাধিকার কমিশন। 