সম্পর্কে হামলা বিদ্বেষ তৈরিই উদ্দেশ্য 
পাঠানকোটে বায়ুসেনার ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা আরও একবার প্রমাণ করে দিল, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ইতিবাচক মোড় নিলে কোনও কোনও মহল তা
বানচাল করার চেষ্টা করে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের তেমনই এক ইতিবাচক মুহূর্তে দেশ প্রত্যক্ষ করেছিল
কার্গিল যুদ্ধ। এবং তার পরবর্তী অধ্যায়ে দু'দেশের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছিল। সরকার-গঠনের ব্রাহ্মমুহূর্ত থেকেই নরেন্দ্র মোদী প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্কের
উপর জোর দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চেয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপও করেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই আকস্মিকভাবে করাচি গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ
শরিফকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন। সে প্রয়াস নাটকীয় হলেও কূটনৈতিক উদ্দেশ্যটি যে ইতিবাচক, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি
ঘটলে কোনও কোনও মহলের সমস্যা হয়। দু'দেশের মধ্যে বৈরীভাব জারি রাখাই তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। পাকিস্তানে এ ধরনের মহলের আয়তন কিঞ্চিৎ
বেশি। সে দেশের প্রশাসনের কট্টরপন্থী অংশ এবং সেনাবাহিনীর একাংশও জঙ্গি সংগঠনকে মদত জোগায় বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, সেনার প্রশিক্ষণেই ওই
সব সংগঠন ফুলে-ফেঁপে উঠছে। ফলে, দু'দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সম্পর্কের ইতিবাচকতা নিয়ে আলোচনা করছেন, স্বাভাবিকভাবেই কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি তা মেনে নিতে পারছে
না। সম্পর্কের বাতাবরণকে যেনতেনপ্রকারেণ নষ্ট করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। সেই কারণেই ভারতে হামলার পরিকল্পনা। জঙ্গিহানা যে হতে পারে, সে খবর
পৌঁছে গিয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে। সেই মোতাবেক সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু যাবতীয় সতর্কতাকে উপেক্ষা করে জঙ্গিরা ঢুকে পড়ে পাঠানকোটের
বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। বায়ুসেনা ঘাঁটি মোটেই সাধারণ এলাকা নয়। সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার। তা সত্ত্বেও জঙ্গিরা কীভাবে ঢুকতে পারল, সে প্রশ্ন
সংগতভাবেই উঠছে। বিস্ময় জাগছে, কীভাবে জঙ্গিরা সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারে ! সরকার যত রকমের ব্যাখ্যাই
দিক, প্রশ্ন উঠবেই। তবে দেশ আক্রান্ত হলে প্রথম কর্তব্য দেশকে রক্ষা করা। সেনাবাহিনী সেই কাজটিই করছে। দেশের নিরাপত্তা এবং পাক-ভারত
সম্পর্ক নিয়ে ফের রাজনীতিবিদেরা কথা বলতে শুরু করেছেন। অনেকেই মোদীর পাকিস্তানে ঝটিকা-সফরের নিন্দা করছেন। জানতে চাইছেন, এর পরেও কীভাবে ভারত-পাক
সম্পর্কের কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদীরা ঠিক এটাই চায়। দু'দেশের সম্পর্কের সূত্রটি ছিন্ন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ঘটনার আকস্মিকতায় সরকার যদি
সেই ফাঁদে পা দেয়, তা হলে বৃহৎ প্রেক্ষাপটে দেশেরই লোকসান। এতদিনের যাবতীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে। দেশকে রক্ষা করতেই হবে।
দেশের উপর আক্রমণ হলে তার উচিত জবাবও দিতে হবে। কিন্তু, পারস্পরিক আলোচনার প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা যাবে না। কারণ, শেষপর্যন্ত আলোচনাই
সমাধানের পথ, পাল্টা অস্ত্র নয়। 