ছাত্র-অধ্যাপকদের পেটালেন জেটলির ঘনিষ্ঠ নেতা ও 'ভারতমাতা'র আইনজীবীরা 
দেশদ্রোহী-মামলার শুনানি ঘিরে আদালত চত্বর পরিণত হল রণক্ষেত্রে! ভারত-বিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারকে আজ পাটিয়ালা হাউস
আদালতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট লভলীনের এজলাসে তোলা হয়েছিল। সেখানে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক, পড়ুয়া এবং সাংবাদিকদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে
একদল আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এমনকী, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়ক ও পি শর্মাকেও এক সিপিআই সমর্থককে মারধর করতে দেখা
গিয়েছে। জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়ার সমর্থনে আদালতকক্ষে আজ হাজির ছিল পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের প্রতিনিধি দল। অভিযোগ, দুপুর ২টো নাগাদ
অন্তত ১০ জন আইনজীবী সেখানে গিয়ে পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। 'ভারতমাতা কি জয়', 'বন্দেমাতরম' ও 'ভারত
জিন্দাবাদ, জেএনইউ মুর্দাবাদ' বলে স্লোগানও দেন তাঁরা। পড়ুয়া, অধ্যাপকেরা বেরোতে না চাইলে ওই আইনজীবীরা তাঁদের মারধর করতে শুরু করেন। বাদ
পড়েননি সাংবাদিকেরাও। দুই সাংবাদিক-সহ ছ'জন আহত হয়েছেন। একটি সংবাদসংস্থার দাবি, 'দেশদ্রোহী'দের শিক্ষা দেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে পাটিয়ালা হাউস আদালত বার অ্যাসোসিয়েশনের
সদস্যেরা গতকালই একটি মেসেজ পেয়েছিলেন। ওই মেসেজে জানানো হয়েছিল, 'দেশদ্রোহী'দের আজ শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষা দিতে হবে। জেএনইউয়ের পড়ুয়ারা দেশের ঐক্য নষ্টের
যে পরিকল্পনা করেছেন, তা ব্যর্থ করতে হবে'। জেএনইউয়ের অধ্যাপক আয়েষা কিদোয়াই বলেন, পাঁচ মহিলা-সহ সাতজনকে ধাক্কা মেরে আদালত থেকে বার
করে দেওয়া হয়। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, আইনজীবীদের 'দাদাগিরি'র সময় সেখানে ২০-৩০ জন পুলিশকর্মী ছিলেন। কিন্তু তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব মহর্ষি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলব। যাঁরা আইন ভেঙেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কানহাইয়ার আজ দু'দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলার শুনানিতে জেটলির সঙ্গেই আজ পাটিয়ালা
হাউস আদালতে গিয়েছিলেন ও পি শর্মা। সেখানে এক সিপিআই সমর্থককে বেধড়ক পেটাতে থাকেন তিনি। শর্মার দাবি, ওই ব্যক্তি 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ'
স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, যে পাকিস্তানের প্রশংসা করবে, তাঁকে মারবই। পরে বিতর্কের মুখে অবশ্য তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি ওই ব্যক্তিকে
মারধর করছিলেন না। তাঁকে পাকড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। এদিকে, স্লোগান-বিতর্কে এনআইএ তদন্তের দাবিতে আজ দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন জমা পড়েছে। আগামিকাল
শুনানি হবে। 