ন্যাপি পাল্টান যিনি, অফিসও করেন তিনি। বিজ্ঞাপনে দিনবদল 
সম্প্রতি কয়েকটি বিজ্ঞাপনে এই ধরনের কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একটি অনলাইন পোশাক সংস্থার বিজ্ঞাপনে সম্প্রতি দেখানো হয়েছে এক অন্তঃসত্ত্বার
কর্মক্ষেত্রে সমস্যার কথা। শাহিন নামে ওই মহিলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাধিকা আপ্টে। কাজে দক্ষ হলেও যাঁর পদোন্নতি হয় না তিনি
সন্তানসম্ভবা বলে। কারণ, তাঁর মহিলা বস মনে করেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বেশ কিছুমাস শাহিন ঠিকঠাক কাজ করতে পারবেন না। শাহিন বোঝানোর
চেষ্টা করেন যে, তিনি কাজ এবং সন্তান একইসঙ্গে ভালভাবে সামলাতে পারবেন। কিন্তু বস তা মানতে নারাজ। শেষপর্যন্ত সেই চাকরি ছেড়ে
আলাদা সংস্থা তৈরি করেন শাহিন। পোশাকের বিজ্ঞাপন হলেও মিনিট তিনেকের ভিডিওটিতে মাত্র একবার পোশাকের উল্লেখ রয়েছে। শনিবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়
ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। অনেক মহিলাই সেখানে লিখেছেন, তাঁরা নিজেও কখনও না কখনও এই সমস্যা সামলেছেন। এক কর্পোরেট সংস্থায় উচ্চপদস্থ কর্মী
তথা নতুন মায়ের (যিনি সন্তানের জন্ম হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে পর্যন্ত সমানভাবে কাজ করেছেন) ফেসবুকে মন্তব্য, 'আ গুড ল্বো'! যমজ সন্তান
সামলে কর্পোরেট সংস্থায় দাপটে কাজ করা আরেক মায়ের মতে, বিজ্ঞাপনটি 'পাওয়ার অফ বিইং আ ওম্যান'! কয়েকমাস আগে এই সংস্থারই একটি
বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়েছিল দু'টি সমকামী মেয়ের গল্প। আরেকটিতে ছিল একা মায়ের লড়াই। যে পাড়াতেই থাকতে যান, একই প্রশ্নের মুখে পড়তে
হয় তাঁকে। শিশুটির বাবা কোথায়? বিজ্ঞাপন ব্যক্তিত্ব প্রহ্লাদ কক্করের মতে, কালো মেয়ে বা ছেলেকে ফর্সা হতেই হবে - এধরনের বিজ্ঞাপন
এখনও যেখানে রমরম করে চলছে, সেখানে 'প্রথাভাঙা' বিজ্ঞাপন অবশ্যই স্বাগত। তাঁর কথায়, মেয়েদের ক্ষমতায়নের দিকটি এখন অনেক রিজ্ঞাপনেই তুলে ধরা
হয়। পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়ার বদলে শুধু মেয়েদের উপরেই গুরুত্ব দেওয়া বিজ্ঞাপন তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয়। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সমস্যা নিয়ে তৈরি
বিজ্ঞাপনটি শহুরে, উচ্চবিত্ত মেয়েদের জন্য অনেক বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন নারী আন্দোলনের কর্মী শাশ্বতী ঘোষ। তাঁর কথায়, গ্রামে মেয়েদের
সব অবস্থাতেই সব কাজ করতে হয়। তবে শহরে উচ্চমধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত সমাজে অন্তঃসত্ত্বা, কর্মরত মেয়েদের অনেক ক্ষেত্রেই বেশি আগলে রাখা
হয়। পারিবারিক দিক থেকে বাধানিষেধ থাকে বা অনেকে নিজেরাও ভয় পান। তাঁদের মানসিক শক্তি যোগানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি বৈষম্যের
কথাও তুলে ধরেছে বিজ্ঞাপনটি। তবে শাশ্বতীর কথায়, আমরা একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, গায়ের রং কালো হলে সেই মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আবার
পরের বিজ্ঞাপনেই দেখছি, একটি মেয়ে সব শারীরিক অবস্থায় একাই সব কাজ করছেন। যাঁরা বিজ্ঞাপন দেখছেন, তাঁরা তা হলে কোন বার্তা
গ্রহণ করবেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সেটিই। সমাজের যাবতীয় রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে কথা-বলা বিজ্ঞাপন সোশ্যাল সাইটে 'হিট'। কিন্তু নাগরিকদের চিন্তাভাবনা কি আদৌ
বদলায়? 