শহীদ দিবসে মেজাজ হারালেন মেয়র, খেই হারাল পুলিস 
একুশের শহীদ দিবসে দিদি বললেন, নেতারা তৃণমূলের সম্পদ নয়। তৃণমূলের সম্পদ কর্মীরাই। নেত্রীর মুখে এই কথা শুনেই করতালিতে সমবেত
হল লক্ষ্য লক্ষ্য হাত। আর মঞ্চের পেছনেই (ব্যাক স্টেজে) নেতা মেজাজ হারিয়ে চটলেন দলেরই কর্মীর ওপর। কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়
প্রথমে মেজাজ হারিয়ে ধমক দিলেন দলেরই ছাত্র নেতা তমোঘ্ন ঘোষকে। ঠাণ্ডা মাথার মেয়রকে মারমুখী হতে দেখেছেন বলেও দাবি করলেন সেখানে
উপস্থিত কর্মীরা। যদিও এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ মেয়র। কেন মানা হল না মেয়রের ডিরেকশন? গাড়িতে একজন বয়স্ক মহিলাকে নিয়ে
এসেছিলেন মেয়র। তিনি হাঁটতে পারবেন না বলেই, গাড়িকে সরাসরি মঞ্চের পেছনে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন মেয়র। কিন্তু তাঁর কথা মত
কাজ হল না। বরং গাড়িকে উল্টো দিকেই পাঠিয়ে দেয় পুলিস। আর তাতেই চটে যান মেয়র সাহেব। পিছন থেকে এসে দলেরই
এক কর্মী যখন তাকে বোঝাতে যান, তখন আরও চটে যান তিনি, সেখান থেকে চলে যেতে বলেন ওই কর্মীকে। এরপর ঘটনাস্থলে
আসেন কর্তব্যরত পুলিস। সঙ্গে সঙ্গেই হাজির হন দায়িত্বে থাকা শঙ্কু স্যারও। ঘটনার পর অবশ্য ওই স্থান ছাড়েন সেই কর্মী। এরপর
গোটা অনুষ্ঠানে কোথাও দেখা যায়নি তাকে। এতো গেল দলেরই নেতা-কর্মীর কথা। সভা শেষ হতেই আরও এক গোলমালে জড়িয়ে পরে দলের
কর্মীরা। সভার পর মঞ্চের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে আসছেন নেত্রী। সাদা স্করপিওর ভেতর থেকে হাত নাড়তে নাড়তেই এগোচ্ছে কনভয়। স্বাভাবিক
ভাবেই দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীদেরও তখন বাঁধন ভাঙা উচ্ছ্বাস উপছে পড়ছে। দিদি বলে ডাকছেন সবাই। আর চাইছেন দিদির আরও কাছে পৌছতে।
দীর্ঘ প্রতিক্ষা। পুলিসকে বারবার অনুরোধ করেও ভেতরে ঢুকতে পারেনি অনেকেই। পুলিসও তার কর্তব্যে অবিচল। একদিকে নেত্রীর প্রতি কর্মীদের উচ্ছ্বাস অন্যদিকে
পুলিসের রাজকর্ম, শেষমেষ যা হওয়ার তাই হল। পুলিসের ওপরই চটলেন কর্মীরা। মাঝ বয়সী এক কর্মী উর্দিধারি এক অফিসারের গায়ে ধাক্কা
মারতেই শুরু হয় ধস্তাধাস্তি। চলে অকথ্য ভাষায় গালাগালিও। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন আইপিএস অফিসার। সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ওই
অফিসারকে। আলাদা করে ডেকে নিয়ে তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন পুলিসের আধিকারিকরাও। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 