মাঝ আকাশে আচমকা বিশাল মানুষের ছায়া! ভূত না দেবদূত? ঘনাচ্ছে রহস্য 
ভূত অথবা ভগবানে আপনার বিশ্বাস না থাকতেই পারে, কিন্তু এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন না যে, পৃথিবীতে এমন অনেক
কিছুই ঘটে যার যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা মেলে না কোনও। তেমনই এক অব্যাখ্যেয় ঘটনা ঘটে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে। এক ৭ বছরের
শিশু এমন এক ছবি তুলেছে, যেখানে দেবদূতের অবয়ব ধরা পড়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে। টেক্সাসের হিউস্টনের বাসিন্দা অ্যাশার লিলেজ ছোটবেলা
থেকেই ডাউন সিন্ড্রোম রোগের শিকার। মানবশরীরে 'এ' ক্রোমোজোম যতগুলি থাকার কথা, অ্যাশারের শরীরে তার থেকে একটি বেশি আছে। সেই কারণেই
তার বৃদ্ধি যথাযথ ভাবে হয়নি। কথা বলতে পারে না অ্যাশার। অবশ্য ছেলের এই রোগকে কোনও 'প্রতিবন্ধকতা' বলে মানতে রাজি নন
তার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, অ্যাশার কথা বলতে না পারলেও, তার 'সিস্কথ সেন্স' অত্যন্ত প্রবল। সে তার চেনা পরিচিত মানুষদের মনের
ভাব খুব সহজেই বুঝে নিতে পারে। তার নিজের মনের ভাবও ইশারায় বোঝাতে সক্ষম অ্যাশার। এই অ্যাশারকে নিয়েই দিন কয়েক আগে
ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন তার মা কেরি। ফেরার ফ্লাইটে জানলার ধারে সিট পেয়েছিল সে। সম্প্রতি ফোটোগ্রাফিতে ছেলের আগ্রহ লক্ষ করেছিলেন কেরি। সেই
কারণে প্লেনে অ্যাশারের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন একটি মোবাইল। নিজের মনে পর পর ছবি তুলে যাচ্ছিল অ্যাশার। মোবাইলে মেমরি বেশি অবশিষ্ট
ছিল না। তা-ই এক সময় ছেলের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ছবিগুলো ডিলিট করতে শুরু করেন কেরি। সেই সময়েই অ্যাশারের
তোলা ছবিগুলো দেখতে গিয়ে চমকে যান মা। একটি বিশেষ ছবিতে আটকে যায় কেরির চোখ। কী ছিল সেই ছবিতে? সেই ছবি
(কেরি-র ফেসবুক পেজ থেকে) কেরি দেখেন, অ্যাশারের তোলা সেই ছবিতে এক বিচিত্র অবয়ব ধরা পড়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, মেঘের বুকে
দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক মানব আকৃতির ধোঁয়া ধোঁয়া মূর্তি। কী কিংবা কে এই মূর্তি? কেরির দাবি, এ আসলে
অ্যাশারের 'গার্ডিয়ান এঞ্জেল'। এক বিরল মুহূর্তে অ্যাশারের দেখভালকারী সেই দেবদূত এসে দেখা দিয়েছে, এবং আশীর্বাদ করে গিয়েছে তাকে। আরও পড়ুন
আকাশ থেকে নেমে এল 'ঈশ্বরের হাত', কাঁপুনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ফেসবুক পেজে ওই ছবি পোস্ট করে এই সমস্ত দাবি করেছেন
কেরি। তার পর ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। অনেকেই বলছেন, অ্যাশার বিশেষ ভাগ্যবান, সেই কারণেই সে তার গার্ডিয়ান এঞ্জেলের দেখা পেয়েছে।
কারো কারো বক্তব্য, দেবদূত নয়, অ্যাশারের ক্যামেরায় ধরা পড়া অবয়বটি আসলে কোনও ভূত বা প্রেতাত্মার। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ওই অবয়বকে দেবদূত
বা ভূত বলে মানতে রাজি নন। তাঁদের বক্তব্য, আকাশে মেঘের বুকে আলোছায়ার খেলার ফলে নানা সময়ে নানা ধরনের আকৃতি গড়ে
ওঠে। সেই সমস্ত আকৃতির সঙ্গে বিভিন্ন পরিচিত জিনিসের সাদৃশ্য ধরা পড়ে। অ্যাশারের ছবিটির ক্ষেত্রেও তেমন কিছুই ঘটেছে। 