ঢাকায় বাহিনীর হাতে মৃত্যু পণবন্দিরও। মিলল আরেক তরুণ জঙ্গির পরিচয় 
রেস্তোরাঁ-সন্ত্রাসে জঙ্গি সন্দেহে এক পণবন্দিকেও হত্যা করেছিল কম্যান্ডোবাহিনী! ঢাকার পুলিশ আধিকারিক সইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুলশনের ওই রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে
বাংলাদেশ সেনা-কম্যান্ডো যে ছ'জনকে হত্যা করেছিল, তাদের অন্যতম সইফুল ইসলাম চৌকিদার ওই রেস্তোরাঁয় পিৎজা তৈরি করতেন! বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের দাবি,
ছবি থেকে সইফুলকে শনাক্ত করেছেন তাঁর পরিবার। প্রসঙ্গত, সইফুলকে এর আগে জঙ্গি বলে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। অনেকেরই ধারণা, কম্যান্ডো অভিযান
শুরু হওয়ার পর জঙ্গিরা অনেক পণবন্দির হাতেই বন্দুক দিয়েছিল। যাতে জঙ্গি এবং পণবন্দিদের নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সম্ভবত সেই বিভ্রান্তির
জেরেই প্রাণ হারাতে হয়েছে রেস্তোরাঁ-কর্মী সইফুলকে। এদিকে, ওই সন্ত্রাসে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে আরও একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। জানানো হয়েছে, শফিকুল
ইসলাম উজ্জ্বল নামে ওই জঙ্গি ছিল বগুড়ার ধুনট উপজেলার কৈয়াগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। আরেক নিহত জঙ্গি মহম্মদ খয়রুজ্জামানও বগুড়ার শাহজানপুরের বাসিন্দা।
শফিকুলের গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্র আজ জানিয়েছে, সে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র ছিল। মাঝপথে কলেজ
ছেড়ে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার শাহজাহান মার্কেট অঞ্চলে একটি বাচ্চাদের স্কুলে পড়ানোর চাকরি নেয়। শফিকুলের আত্মীয়েরা জানিয়েছেন যে, সে ছ'মাস আগে
শেষবারের মতো গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিল। বাড়ি ছাড়ার আগে ওই যুবক বলে গিয়েছিল, সে তল্বিগ জামাতে'র 'চিল্লা'য় (৪০ দিন ধরে বিভিন্ন
মসজিদে উপসনা) যোগ দিতে যাচ্ছে। ইন্টারনেটে বাকি তিন জঙ্গি - নিবরাস ইসলাম, মীর সাবিহ মুবাশির এবং রোহন ইমতিয়াজকে ছবি দেখে
শনাক্ত করেছে তাদের বন্ধুরাই। এর মধ্যে রোহনের বাবা ইমতিয়াজ খান বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামি লিগের নেতা। ছেলের কাণ্ডে 'বাগ্রুদ্ধ' ইমতিয়াজ
ব্রিটেনের একটি চ্যানেলকে বলেছেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই দিনে পাঁচবার নমাজ পড়ত। তবে সন্ত্রাসমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে, এমন কোনও আঁচ
আমরা পাইনি। বাবা হিসাবে আমি ব্যর্থ। নিবরাস সম্পর্কে তাঁর পরিচিতেরা জানিয়েছেন, এক সময়ে তার নেশা ছিল ফুটবল। ২০১৪ সালের ২
নভেম্বর সে নিজের টুইটার হ্যান্ডলে লিখেছিল, 'চিরবিদায়'। পরিচিতেরা জানিয়েছেন, ওই সময় থেকেই নিবরাসের চরিত্রে বদল ঘটছিল। এদিকে, গত শুক্রবারের হামলার
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক হাসানত রেজা করিম এবং তহমিদ হাসিব খানকে এখনও হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন
গোয়েন্দারা। হাসানতের বাবা এম আর করিম বাংলাদেশের এক সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের উপরে সন্দেহ থাকলে পুলিশের উচিত তদন্ত করে ব্যবস্থা
নেওয়া। প্রসঙ্গত, হাসানত সপরিবারে রেস্তোরাঁয় পণবন্দি হলেও তাঁর উপরে কোনও অত্যাচার করেনি জঙ্গিরা। রেস্তোরাঁ জঙ্গিদের দখলে থাকার সময়ে তাঁর কয়েকজনের
সঙ্গে বাগানে হেঁটে বেড়ানোর ছবিও ধরা পড়েছে সিসিটিভি'তে। তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে করিম বলেছেন, ওকে সন্দেহের কারণ রয়েছে। তাকে নিয়ে
জঙ্গিরা ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু এটা তো সন্দেহ। পুলিশের উচিত ওকে এখন ছেড়ে দিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা। 