দেহ থেকে মন এবং তারও পরে...পর্নস্টার থেকে মা এবং তারও পরে... 
অন্য কারও থেকে শোনার আগে আমি চেয়েছিলাম ও আমার থেকে সব শুনুক, বলছেন ক্রিস্টাল ব্যাসেট। ছেলে তখন ক্লাস সেভেনে।
মা স্থির হয়ে ছেলের সামনে বসে বলেছিলেন, তুমি একজন পর্নস্টারের সন্তান। তার পরে? ছেলে ও মা, দু'জনে দু'জনকে জড়িয়ে ভেঙে
পড়েছিলেন কান্নায়। লোনা জলের প্লাবনে সেই দিন নতুন করে রচিত হয়েছিল অপত্য-বন্ধনের এক নতুন অধ্যায়। সেই কঠিন দিনগুলো থেকে একটু
একটু করে পাঠ নিয়েছেন একদা পর্নস্টার ক্রিস্টাল ব্যাসেট। একটা বিয়ে তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে আমূল। কিন্তু অন্তরের পরিববর্তন আর বাহ্যিক-ব্যবহারিক
জীবনের বদলের মধ্যে ফারাক যে কত যোজনের, তা এখন বুঝতে পারছেন তিনি। আর সেটাই বোঝাচ্ছেন দুনিয়াকে। ক্রিস্টাল। সেই আগের দিনগুলোয়
ঠিক এই মুহূর্তে খ্রিস্টান কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করছেন ব্যাসেট। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লোকেদের আলো দিচ্ছেন ধর্মের পথ বেয়ে। তবে শুধু ধর্মের
গণ্ডিতে এই মানবসেবার কাজ আটকে রাখতে চান না। এক যন্ত্রণার অতীত বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিস্টাল। আমেরিকার অসওয়েগো-র মেয়ে ক্রিস্টাল মাত্র ১৭
বছরেই মা হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক, সেই সন্তানকে স্বীকার করেননি জন্মদাতা। একা কিশোরী সন্তানকে কোলে নিয়ে শহর ছাড়েন। প্রথমে ডান্সিং
পাব এবং পরে সেখান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার নীল-দুনিয়া। এর পরের এক দশক বৈভবের। নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট, ফেরারি, রান্নার লোক, মালি, চাকর -
যা চেয়েছিলেন, সব পেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের দিকে তাকালেই বুক কেঁপে উঠত। এই টাকার উৎস জানলে সে কী করবে? কীভাবেই বা
বলবেন ছেলেকে সব কথা? ৩২-এ পৌঁছে নাটকীয় পরিবর্তন আসে ক্রিস্টালের জীবনে। বিয়ে হয় এক মন্ত্রীর সঙ্গে। এবং তার পরেই নীলছবির
দুনিয়াকে বিদায় জানান চিরতরে। চলে যান গির্জায়। শুরু হয় জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। নিজের যন্ত্রণা দিয়ে মুছিয়ে দিতে শুরু করেন অন্যের
যন্ত্রণা, কষ্ট। একজনের মনের ঘা মুছে দিতে শুরু করল অন্যের আঘাত। সহায় যিশু। এখানেই থামছেন না ক্রিস্টাল। ধর্মের বাইরে গিয়েও
এই কাজ করতে চান। রাজনীতিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সাহায্য করছেন স্বামী। আলোর পথে এগিয়ে চলেছেন ক্রিস্টাল। অন্তর তাঁর
স্ফটিকের মতোই স্বচ্ছ... আরও দুই মায়ের গল্প পড়ুন আমার ফিল্ম দেখো না মা যখন পর্নস্টার 