কার সন্তান আমি? পিতার পরিচয় পেয়ে স্তম্ভিত কিথ উইলিয়ামস 
কিথ উইলিয়ামস তাঁর কল্পনাজগৎকে মহাকাশে বিস্তৃত করলেও সম্ভবত এমন কিছুর প্রত্যাশা করতেন না। দশকের পর দশক জন্মদাতার সন্ধানে হন্যে
কিথ যা জেনেছেন, তাতে প্রথমে তাঁর অবস্থা হয় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো। পরে ধীরে ধীরে সামলে নেন। কী জেনেছেন কিথ? জেনেছেন, জন্মদাতার
শিকড় ইংল্যান্ড থেকে ছ'হাজার মাইল দূরে। জেনেছেন, তিনি একজন মালয়েশীয় সুলতানের ছেলে। আড়াই বছরের কিথকে দত্তক নিয়েছিলেন ব্রিটিশ দম্পতি। ১৩
বছর বয়সেই কিথকে তাঁর মা জানিয়েছিলেন দত্তক নেওয়ার বিষয়টি। কিন্তু বাকিটা? কয়লা ব্যবসায়ীর জীবনচরিত নয়। এ একেবারে রূপকথা। কিথ জানিয়েছেন,
তাঁর জন্মদাত্রী মা ছিলেন সারে-র একটি হাসপাতালের শিক্ষানবিশ নার্স। সেই সময়েই মালয়েশিয়ার ওই সুলতানের (সেই সময়ে ছাত্র হিসেবে তিনি লন্ডনে
পড়ছেন) সঙ্গে তাঁর পরিচয়, যা গড়ায় প্রেমে। অন্তঃসত্ত্বা হন নার্স। কিন্তু তার পরে সেই যুবকের আর কোনও খোঁজ পাননি তরুণী।
অনেক পরে জন্মদাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন কিথ। তার পর? বলছেন, উনি (জন্মদাত্রী) আমাকে বলেছেন, যাঁর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে
উঠেছিল, তিনি ছিলেন মালয়েশিয়ার লোক। দু'জনের একসঙ্গে তোলা ছবিও দেন আমাকে। আমি জেনেছি, ওই ব্যক্তি মালয়েশিয়ার রাজপরিবারের সদস্য। ১৯৬৩ সালে
তাঁকে সুলতান করা হয়। কিথ বলছেন, এ যেন ডিজনির গল্প। কেউ যদি আপনাকে কফি শপে বসে এই গল্প বলতেন, তিনি
নিশ্চিতভাবেই তাঁকে বের করে দিতেন। আমি চমকে গিয়েছিলাম। জন্মদাত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। দেখেছিলাম, তিনি আমার পিতার সম্পর্কে বহু খবরই রাখেন।
অনেক ছবি উনি আমাকে দেখিয়েছিলেন। তা হলে বাবা কে? ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, আলমারহুম সুলতান ইদ্রিস শাহ ইবনি আলমারহুম সুলতান
ইসকন্দর শাহ ১৯৬৩ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সুলতান ছিলেন। মারা যান হৃদরোগে। আরও পড়ুন চলন্ত গাড়িতে ঝুলে
অপহৃত সন্তানকে উদ্ধার করলেন বাবা বাবা-ছেলের চুরি-কীর্তি 