দুই দেশ এখন শুধুই পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী! তার মধ্যেই ব্যতিক্রম দেখালেন ইন্দো-পাক জুটি 
দিন দিন দুই দেশের মধ্যে বেড়ে চলেছে চাপান-উতোর। প্রতিবেশী দেশ হয়েও, দুই দেশ থেকে গিয়েছে পরস্পরের প্রতিযোগী হয়েই। তার
উপর, যেভাবে সীমান্তে লাগাতার সেনামৃত্যু এবং সংঘর্ষ-বিরতি লঙ্ঘন হয়ে চলেছে, তাতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। কিন্তু এসবের মাঝখানেই,
ব্যতিক্রমী হয়ে নজির গড়লেন বেঙ্গালুরুর তজমুল পাশা বং করাচির নিহাল জাফার। তজমুল এবং নিহাল দু'জনই এখন আবু ধাবির বাসিন্দা। গত
৮ বছর ধরে, রমজানের সময়ে মানুষকে বিনামূল্যে ইফতারের খাবার খাওয়ান এই ইন্দো-পাক জুটি। প্রতিদিন ৪০০-রও বেশি মানুষ খেতে আসেন এখানে।
আইটি কম্পানিতে কাজের সূত্রেই আবু ধাবি তাঁদের বাসস্থান হয়ে ওঠে। সেখানেই ২০০৪ সালে দেখা হয় দু'জনের। দেখা হতেই মিলে যায়
দু'জনের উদ্দেশ্য - সমাজে দরিদ্রদের পাশে থেকে সাহায্য করা। এই উদ্দেশ্য নিয়েই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে দু'জনের মধ্যে। তজমুল জানান,
১৯৯৯ সালে আবু ধাবিতে যাওয়ার পরে এক ব্যক্তিকে বিনামূল্যে বহু মানুষকে ইফতার খাওয়াতে দেখেছিলেন। সেদিন ইফতারের খাবার খেতে সেই লাইনে
নিজেও দাঁড়িয়েছিলেন তজমুল। তখন থেকেই ভেবে নিয়েছিলেন, যেভাবেই হোক, একদিন তিনিও মানুষকে বিনামূল্যে ইফতার খাওয়াবেন। ছবি- উইকিপেডিয়া এর পরে নিহালের
সঙ্গে দেখা হলে জানতে পারেন, নিহাল একটি মসজিদে ইফতারের আয়োজন করেন। সঙ্গে ছিলেন নিহালের বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি বন্ধুও। এর পরেই
একটি কার পার্কিং স্ট্রাকচারের ছাদে দু'জনে বিনামূল্যে রমজানে খাওয়ানো শুরু করেন। রোজ ৪০০ থেকে ৮০০ মানুষ এখানে খেতে আসায়, প্রত্যেকদিন
তজমুল ও নিহালের ২৬ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সাধারণত চিকেন বিরিয়ানি, সরবত, জল, খেজুর এবং তরমুজ খাওয়ানো
হয়। এছাড়া কোনও দিন শিঙাড়া, পাগোডাও দেওয়া হয়। তজমুল এবং নিহাল ছাড়াও ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ১৮ জন এই কাজের
সঙ্গে যুক্ত। তারাও বিভিন্ন রকম ভাবে সাহায্য করেন। এই ইফতার খেতে শুধথু মুসলমান নয়, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আসেন বলে একটি
ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান নিহাল। তিনি এও জানান, গত বছর গুরুদ্বার থেকে কয়েকজন শিখ সরবত দিয়ে সাহায্য করেছিলন। 