আইএস ঘাঁটিতে হামলা রাশিয়ারও 
এই উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগরে ফরাসি নৌবাহিনীর বিমানবাহী জাহাজ 'শার্ল দ্য গল'কে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আজ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সেদেশের একটি বিমান
মিশরে ভেঙে পড়ার পিছনে আইএস-ই রয়েছে বলে আজ জানান রাশিয়ার গোয়েন্দাসংস্থা 'ফেডেরাল সিকিউরিটি সার্ভিসে'র প্রধান আলেকজান্ডার বোর্তনিকভ। তার পরেই প্রেসিডেন্ট
ভলাদিমির পুতিন বলেন, জঙ্গিরা জেনে রাখুক, প্রত্যাঘাত তাদের সহ্য করতেই হবে। প্রসঙ্গত, ওই বিমান ভেঙে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২২৪ জন যাত্রী।
বোর্তনিকভ জানান, বিমান ধ্বংসের জন্য আইএস এক কিলোগ্রাম টিএনটি'র সমতুল্য বিস্ফোরক ব্যবহার করেছিল। রুশ বিমানবাহিনী আজ কাতারের ঘাঁটি থেকে রাক্কা-সহ
উত্তর সিরিয়ার বিভিন্ন আইএস ডেরায় হামলা চালায়। বিমানহানা চালায় ফরাসি বায়ুসেনাও। '৮০র দশকের মিরাজ-২০০০'এর পাশাপাশি ছিল পঞ্চম প্রজন্মের রাফালে যুদ্ধবিমান
স্কোয়াড্রনও। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বা জর্ডনের বিমানঘাঁটি থেকে সিরিয়ায় উড়ে যেতে ফরাসি বিমানগুলির অনেক জ্বালানি এবং সময় খরচ হচ্ছে। তা
এড়াতেই সাড়ে ৪২ হাজার টনের 'গল'কে ভূমধ্যসাগরে নিয়ে আসা হচ্ছে। আইএস বিরোধী অভিযানে সমন্বয়ের জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলাঁদ আজ
পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আইএস-বিরোধী অভিযান নিয়ে আলোচনার জন্য অলাঁদ আগামী ২৪ ডিসেম্বর আমেরিকা এবং ২৬ ডিসেম্বর রাশিয়ায় যাবেন।
তাঁর সরকার আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়েছে। ব্রাসেলসে ইউনিয়নের সদর দফতরে গিয়ে ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জঁ-ইভ ল্য দ্রিয়াঁ সাহায্যের
আবেদন জানান। সংগঠনটির ইতিহাসে কোনও সদস্যরাষ্ট্রের তরফে সামরিক সাহায্যের আবেদন নজিরবিহীন ঘটনা। ইউনিয়নের আর্থিক বিষয়ক কমিশনার পিয়ের মস্কভিসি বলেন, আবেদন
বিবেচনা করে দেখব। অলাঁদ আজ ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। সিরিয়ার বিমানহানা চালাতে গিয়ে ইরানের সঙ্গে আকাশসীমা
লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিতর্ক এড়াতেই এই বাক্যালাপ। যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষোভ, মুসলিম দেশগুলি তেমনভাবে প্যারিসে জঙ্গিহানার নিন্দা করেনি। তবে
পুতিন ওই জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার জন্য পশ্চিমি দেশগুলিকেই আজ পরোক্ষে দোষারোপ করেছেন। তুরস্কে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে
তথ্য রয়েছে, ৪০টি দেশ আইএসকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে জি-২০ গোষ্ঠীর কয়েকটি সদস্য-রাষ্ট্রও রয়েছে। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন ঘটাতে
আইএস'কে পরোক্ষে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে। পুতিন আজ সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে কূটনৈতিক
মহলের ধারণা। 