মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই মুছে গেল পাস্তার শহর! ইতালিতে মৃত ১২০ 
ইতালির স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোররাতে ঘড়ির কাঁটা তখন ৩টের ঘর ছাড়িয়েছে। আর সেই সময়ই প্রবল ভূমিকম্প অনুভূত হয়
মধ্য ইতালির দক্ষিণ পেরুগিয়াতে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.২। ইউএসজিএস-এর দেওয়া তথ্যে দেখা যায় কম্পনের কেন্দ্রস্থল দক্ষিণ পেরুগিয়ার নরসিয়া
শহর। ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর গভীরে মাত্র ১০ কিলোমিটার মধ্যেই এই কেন্দ্রস্থল হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বলে মনে করা হচ্ছে। তারমধ্যে
রাত হওয়ায় বহু মানুষ ঘুমে অচৈতন্য ছিলেন। ফলে, প্রাণহানির সংখ্যা অনেকটাই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পেরুগিয়া শহরের মেয়র
৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। দিনের আলো ফোটার পর যত সময় যাচ্ছে ততই স্পষ্ট ধ্বংসের ছবিটা। বহু স্থানে ধূলোয়
মিশে গিয়েছে বাড়ি-ঘর। ভেঙে পড়েছে বহুতল। ধ্বংসস্তূপ থেকে বহু আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। উদ্ধার কাজে নামানো হয়েছে স্নিফার
ডগ। ধ্বংসস্তূপের তলায় বহু দেহ আটকে আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে, নরসিয়া শহরের ফায়ার ব্রিগেড দফতর সূত্রের খবর, একটি
বহুতল ভেঙে পড়েছে। তার ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে আছেন বহু মানুষ। এছাড়াও, বহু মানুষ তাঁদের টুইটার হ্যান্ডলে যা আপলোড করেছেন তাতেও
জায়গায় জায়গায় ধ্বংসের চিহ্ন মিলেছে। মূল ভূমিকম্পের পর দ্রুত ২৩ বার আফটারশকেও কেঁপেছে মধ্য ইতালি। ফলে, মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক
ছড়িয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে নামানো হয়েছে উদ্ধারবাহিনী। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও তার পার্শ্ববর্তী একাধিক স্থানে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি ও মহিলার ভিডিও দেখুন... ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিয়া শহর থেকে রোম শহরের দূরন্ত মাত্র ১৭০
কিলোমিটার। আফটারশকেও রোমে আতঙ্ক ছড়ায়। একাধিক মানুষ জানিয়েছেন, ২০ সেকেন্ডেরও বেশি স্থায়ী হয়েছিল প্রথম ভূমিকম্পটি। এরপর যে আফটারশক হয়েছে তাতে
ঘরের আসবাব থেকে বিছানা যেভাবে কেঁপে উঠেছে তাতে আর কেউ ঘরে থাকতে চাইছেন না। উদ্ধারকার্যের আরও ভিডিও দেখুন... নরসিয়া শহরের
কাছেই নেপলস এবং কালাব্রিয়া সমুদ্র সৈকত। কম্পন সেখানেও অনুভূত হয়। ২০০৯ সালেও ইতালির এই অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার
স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬.৩। এতে ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০১২ সালের মে মাসেও প্রবল ভূমিকম্প হয়েছিল ইতালিতে। ১০ দিন
ধরে চলা আফটারশকে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গৃহহীন হয়েছিলেন অন্তত ১৪ হাজার মানুষ। দেখুন ভিডিও... ভূমিকম্পের আরও কিছু ছবি... পাহাড়ি
রাস্তায় ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে বাড়ি, তাতে আটকে গিয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স ভেঙে পড়া বাড়ির সামনে সাহায্যের আর্তি নিয়ে মহিলা চলছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে
উদ্ধারকাজ ধ্বংসস্তূপের সামনে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে কোনওভাবে রক্ষা পেয়েছেন এঁরা উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে স্নিফার ডগ ভূমিকম্পে সর্বস্ব হারিয়েছেন এই
মহিলা ঘুমের মধ্যে কোনভাবে টের পেয়েছিলেন ভূমিকম্পের, সেই অবস্থায় বালিশ হাতেই রাস্তায় বেরিয়ে আসেন এই দুই মহিলা, আতঙ্কের রেশ চোখেমুখে
এক আহতকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে রাতের অন্ধকারে কোনওভাবে কম্বল জড়িয়ে, খালি পায়েই নেমে এসেছিলেন রাস্তায়, সকালের আলোয় দেখছেন ধ্বংসের
ছবি চারিদিকে শুধুই ধ্বংসের ছবি উদ্ধারকাজে ফায়ার ব্রিগেড আহত ও ট্রমায় আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চলছে প্রাণের
সন্ধান ভূমিকম্পে হারিয়েছেন ভিটেমাটি, ভেঙে পড়া প্রৌঢ়াকে স্বান্তনা মেয়ের ভেঙেছে হাড়, ঘাড়ে গুরুতর চোট, পুলিশের সহায়তায় অবশেষে হাসপাতালের পথে নরসিয়া
শহরের আরও এক ধ্বংসের ছবি কোনওমতে ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন এই বৃদ্ধ, কিন্তু, মাথায় গুরুতর চোট পেতে
হয় দিনের আলো যত গড়াচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে ভূমিকম্পে ধ্বংসের মাত্রা পাহাড়ের কোলে এভাবেই বহুতল ভেঙে পড়েছে তাসের ঘরের মতো
ভেঙেছে পা, তাই এভাবেই উদ্ধারকারীর সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসছেন ইনি বড়দের চোখে আতঙ্ক, ছোটদের চোখে বিষ্ময় প্রকৃতির গ্রাসে সব
গিয়েছে, এখন কী হবে? সেই প্রশ্নই যেন করছেন এই মহিলা 