বাংলার দোল, ত্রিনিদাদে ফাগওয়া! জানুন রং উৎসবের মিল-অমিল 
'বসন্ত এসে গেছে'। বসন্ত মানেই রং-এর উৎসব। প্রেমিক, প্রেমিকা, বন্ধু, বন্ধুর মতো, সহপাঠী, সহকর্মী, অপছন্দের মানুষ - সবাইকেই রাঙিয়ে
দেওয়া যায় এই বসন্তে। শ্রীকৃষ্ণের হাত ধরে শুরু হয় সেই দোল উৎসব। ফুলের দোলনায়, ফুলের পোশাকে সখীদের সঙ্গে আবির খেলায়
মাততেন ব্রজের রাখাল। কিন্তু রংয়ের উৎসব শুধু ভারতেই পালন হয় না। সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পেরিয়ে অন্যান্য দেশে-মহাদেশেও মানুষ রং-এর
খেলায় মাতেন। প্রতিটি দেশেই কোনও না কোনও ভাবে রয়েছে হিন্দু গোষ্ঠী। তাদেরই উদ্যোগে ভিন দেশেও পালিত হয় হোলি ও বসন্ত
উৎসব। অনেক ক্ষেত্রে সেই রংয়ে রং মেলান সেই সব দেশের অন্যান্য বাসিন্দারাও। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে এমনই এক দ্বীপভূমি রয়েছে - ত্রিনিদাদ
ও টোব্যাগো। 'ফাগওয়া' নামে হোলি পালন হয় এখানে। ফাগওয়া-কে ফসলের উৎসব বলে মনে করেন এখানকার বাসিন্দারা। যদিও একটু গভীরে গেলে
দেখা যাবে, রংয়ের উৎসব আসলে ফসলের উৎসবই। দোল পূর্ণিমার আগের দিন হোলিকা দহনেয় পুরনো ঘাস পাতা পোড়ানো হয়। আর পুরনোর
ধ্বংস মানে নতুনকে স্বাগত জানানো। কিন্তু ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর মতো সুদূর দ্বীপে কীভাবে উৎপত্তি এই উৎসবের? ১৮৪৫-এ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল
থেকে শ্রমিকের কাজের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ত্রিনিদাদে। সেই সব 'এগ্রিমেন্ট লেবারার' সেই বিভুঁইয়েই শুরু করেন হোরিখেলা।
নাম ফাগওয়া, আমাদের দেশের ফাগুয়ার মতোই পালিত হয় এই উৎসব। আবির, রং, পিচকারি, গান-বাজনা, মিষ্টি খাওয়া দাওয়া - সবই থাকে
ত্রিনিদাদের বসন্ত উৎসবে। সম্পর্কের যবতীয় কালো এদিন বালতি বালতি রংয়ের সঙ্গে ধুয়ে মুছে যায়। ত্রিনিদাদে পউই গাছে হলুদ ও গোলাপি
রংয়ের ফুল ধরলেই শুরু হয় ফাগওয়া উৎসব। এই সময় থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তরমুজ ও আখের ফলন কেমন হবে। এই
বিষয়ে অন্যান্য খবর রং ছাড়াই খেলুন দোল! জেনে নিন আবির-আদরে মন দোলানোর টিপস রীতি অনুযায়ী ফাগওয়াতে চৌতাল গান গাওয়া হয়।
মাত্র দু'টি বাদ্যযন্ত্র - ঢোল ও মঞ্জিরার মাধ্যমে এই লোকগান গাওয়া হয়। উদাত্ত কণ্ঠের এই গানের সঙ্গে কোমর দুলিয়ে নাচও
হয়। সব মিলিয়ে, ভারতের চাইতে কোনও অংশেই কম নয় ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর দোল উৎসব। 