আমদাবাদে শাহরুখের ছবির শ্যুটিং বন্ধ। এবার আপত্তি এএসআইয়ের 
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাতে আবারও থমকে গেল শাহরুখ খানের নির্মীয়মাণ ছবি 'রইসে'র শ্যুটিং! গত দু'সপ্তাহে গুজরাতেই তিনবার শাহরুখের
শ্যুটিং বাধা পাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। অসহিষ্ণুতা-বিতর্কে জুড়ছে বাড়তি মাত্রা। আজ আমদাবাদের অদূরে 'হেরিটেজ' এলাকা হিসাবে চিহ্নিত
সারখেজ রোজায় শ্যুটিং ছিল শাহরুখের। কিন্তু 'যথোপযুক্ত' অনুমতি না থাকায় সেখানে শ্যুটিং আটকে দেয় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)। সারখেজ
রোজায় রয়েছে বহু প্রাচীন মসজিদ এবং সমাধিক্ষেত্র। তদুপরি জায়গাটি 'হেরিটেজ' এলাকা হওয়ায় সেখানে শ্যুটিং করতে গেলে এএসআইয়ের অনুমতি লাগে। জানা
গিয়েছে, 'রইসে'র শ্যুটিংয়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিলেও এএসআইয়ের অনুমতি নেয়নি। ফলে, নির্ধারিত 'শ্যুটিং স্পটে' প্রবেশের অনুমতি পাননি শাহরুখ-সহ 'রইসে'র
ইউনিটের সদস্যেরা। এএসআইয়ের কাছে শ্যুটিংয়ের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। শাহরুখের শ্যুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত শুক্রবারের পুনরাবৃত্তি কিছুটা হলেও প্রকট।
সেবার অবশ্য এএসআই নয়, কিছুক্ষণের জন্য ওই ছবির কাজ পণ্ড হয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) প্রতিবাদে। কচ্ছ জেলার মাণ্ডবীতে শাহরুখের
শ্যুটিংয়ের প্রতিবাদে রাস্তা আটকেছিল ভিএইচপি'র লোকজন। শেষ পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ভিএইচপি'র মাণ্ডবী শাখার সভাপতি রঘুবীর জাডেজাকে বলতে শোনা
গিয়েছিল, অসহিষ্ণুতা নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদেই আমরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। শাহরুখের মনে রাখা উচিত, দেশে অসহিষ্ণুতা থাকলে ওঁর পক্ষে এত জনপ্রিয় তারকা
হওয়া সম্ভব হতো না। গুজরাতের প্রেক্ষাপটে তৈরি হচ্ছে রাহুল ঢোলাকিয়া পরিচালিত 'রইস'। ওই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছবির শ্যুটিং হওয়ার কথা।
যদিও গত ১ ফেব্রুয়ারি কচ্ছে পা দেওয়া থেকেই একের পর এক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে 'রইসে'র শ্যুটিং ইউনিট। সেদিনই খড়ী নদীর
তীরে শ্যুটিংয়ের আগে শাহরুখকে আটকাতে মিছিল বার করেছিল ভিএইচপি। তারও দু'দিন আগে রাজ্যে শাহরুখের আগমনের প্রতিবাদে ভুজ প্রশাসনের সদর দফতরের
সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল হিন্দুত্ববাদীরা। গত ২ নভেম্বর নিজের জন্মদিনে সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শাহরুখ মুখ খুলেছিলেন অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে। দেশে ক্রমবর্ধমান
অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরে তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে বলে দাবি করলেও বিতর্ক মেটেনি। কারণ যা-ই হোক, মোদীর
রাজ্যে বারবার শাহরুখের ছবির শ্যুটিং বাধা পাওয়া 'তাৎপর্যপূর্ণ' বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারিদের একাংশ। কেউ কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অসহিষ্ণুতা
বিতর্কে মুখ খোলার পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যটন প্রচারবিজ্ঞাপন 'ইনক্রেডিল্ব ইন্ডিয়া' থেকে আমির খানের 'অপসারণে'র ঘটনা। 