শাহরুখের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি 
'কাবিল' নিয়ে এতটা প্রত্যাশা ছিল আপনার? আমরা নিশ্চিত ছিলাম, যে আমাদের ছবিটা স্ট্রং। গল্পটা জোরাল। ফলে ছবি যে ভাল
চলবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ ছিল না। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে গেলাম, এত লোকের ভালবাসা পেয়ে! দর্শক শুধু ছবিরই তারিফ করছেন না,
তাঁরা আমাদের চরিত্র দু'টোকেও আলাদা করে সম্মান জানাচ্ছেন। রোহন এবং সুপ্রিয়াকে! এতটা উৎসাহ পাব, ভাবিনি। 'রইস'এর সঙ্গে টক্করটা এড়ানো যেত
বলে মনে করেন? অফকোর্স এড়ানো যেত। কিন্তু আমাদের হাতে তো কিছু ছিল না। কল'টা 'রইস'এর নির্মাতাদেরই নিতে হতো। ওঁরা তো
আমাদের কথা শুনলেনই না। ওঁরা এমনিতেই 'সুলতান' বা 'দঙ্গল'এর জন্য ডেট পিছিয়ে দিয়েছিলেন। আর একবার পিছোলে কী অসুবিধে হতো, আমি
জানি না! শাহরুখের সঙ্গেও দেখা করতে গিয়েছিলাম আমি। ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধও করেছিলাম। কিন্তু কোনও লাভ হল না তো! ব্যবসাটা ভাগ হয়ে
গেল। এর আগেও বহুবার আপনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পরদায় নিজের চরিত্রে ফুটিয়েছেন। দৃষ্টিহীনের চরিত্রে অভিনয় করাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? নাথিং লাইক
এনিথিং আই হ্যাভ এভার প্লেড বিফোর। অন্ধের ভূমিকায় অভিনয় করার মতো কঠিন আর কিচ্ছু নেই। সবই তো দেখতে পাচ্ছি! ভিস্যুয়াল
ডিসট্র্যাকশন কাটানো খুব মুশকিল। তাছাড়া প্রচণ্ড কনফিউশনও ছিল। কোনও একটা জিনিসের দিকে তাকাব, নাকি চোখ ঘোরাতে থাকব চারপাশে! বাট বোথ
ইয়ামি অ্যান্ড আই লেট থিংগস ফ্লো। আর ও যেভাবে অন্ধের চরিত্রটা করেছে, তার প্রসেস আমার থেকে একদম আলাদা ছিল। ছবিটা
করার আগে যেহেতু আমরা দৃষ্টিহীনদের সঙ্গে দেখা করেছি, সময় কাটিয়েছি - তাই জানি, দু'জন দৃষ্টিহীন মানুষের মধ্যে কোনও মিল হয়
না! ফলে ইয়ামির সঙ্গে আমার অন্ধত্বেও কোনও মিল ছিল না। আই লাভড দ্যাট ফ্যাক্ট, বাট ওয়াজ অলসো সারপ্রাইজড! কলকাতায় ইয়ামি
গৌতম কেন? আপনারা একসঙ্গে রিহার্স করেননি? না! আমরা সরাসরি সেট'এ এসে যে যার কাজ করেছি। ইয়ামি রিহার্স করতে চেয়েছিল। কিন্তু
কপাল জানত, সেটা হওয়ার ছিল না (হাসি)। আমরা এমনিই দারুণ কানেক্ট করে গিয়েছি! ছবিটা এমনিতে 'রিভেঞ্জ' নিয়ে, কিন্তু ধর্ষণের মতো
চূড়ান্ত অপরাধও ছবির একটা দিক। যে সমস্যায় ভুগছে গোটা ভারত...। আমাদের ছবিটা হয়তো সরাসরি এই সমস্যা নিয়ে কোনও বার্তা দেয়
না। কিন্তু একটা রিফ্লেকশন তো রয়েছেই। এরকম কোনও অনাবশ্যক পরিস্থিতি যদি কখনও আসে, কী করা উচিত আমাদের? ধর্ষণের মতো একটা
অন্যায়ের ফলে যে কষ্ট, যে নিষ্ঠুরতার মোকাবিলা করতে হয়, ফিল্মটা সেই কথা বলে। তার সঙ্গে ন্যায়বিচারের কথাও। যে ন্যায়ের রাস্তা
রোহন নিজের হাতে তুলে নেয়। তার ভালবাসার স্বার্থে। দিনের শেষে ছবিটা প্রেমের জয় নিয়েই। কারণ সুপ্রিয়ার সব স্বপ্ন সত্যি করার
জন্য নিজেকে কাবিল বানায় রোহন। ফলে সেদিক থেকে ছবিটা ইন্সপায়ারিং তো বটেই। ইয়ামি তুলনামূলকভাবে নতুন, ওঁর জায়গায় বলিউডের অন্য যে
কোনও নায়িকাকে হৃতিক নিজের বিপরীতে পেয়ে যেতেন...। বাট ইয়ামি ইজ ইয়ামি! সুপ্রিয়ার জন্য পারফেক্ট অভিনেত্রীকে আমরা অনেক খুঁজেছিলাম। কাউকেই তেমন
মনে ধরেনি। কারণ বোধহয় ইয়ামিই! ও যখন এল, অডিশন দিল - আমরা বুঝে গিয়েছিলাম ও-ই আমাদের সুপ্রিয়া! এক-দু'দিন শ্যুট করার
পর তো আমাদের ইউনিটের প্রতিটা মেম্বার আমাকে আলাদা করে বলতে লাগল, হাউ গ্রেট শি ইজ অ্যাজ অ্যান অ্যাক্টর! খুবই বুদ্ধিমতী
মেয়ে ও। ওকালতি পড়েছে না (হাসি)! ল স্টুডেন্টরা যেমন হয় আর কী! আপনাকে ভারতীয় গ্রিক গড বলা হয়। দীপিকা-প্রিয়ঙ্কাদের মতো
আপনি আন্তর্জাতিক ছবিতে কাজ করতে চাইবেন না? কেন চাইব না? ভাল চিত্রনাট্য পেলে নিশ্চয়ই যাব। অভিনয় করা নিয়ে ব্যাপার! সেটা
দেশের মাটিতে করলাম না বিদেশে - ম্যাটার করে না। ইয়ামি গৌতম কিন্তু হৃতিকের ব্যাপারে বেশ পজেসিভ! যে মুহূর্তে শুনলেন হৃতিক
বিদেশেও কাজ করতে যেতে ইচ্ছুক, ছদ্মকোপে আপত্তি জানালেন! ইয়ামিঃ ওটি হচ্ছে না! আমরা আমাদের দেশের গ্রিক গডকে মোটেই বাইরে পাঠাব
না। হলিউড উঠে চলে আসুক এই দেশে। হৃতিক যাবে না! হৃতিকঃ (হাসতে হাসতে) দেখি আমার ম্যানেজারকে বলে, ওরা কোনও ব্যবস্থা
করতে পারে কি না! 