ষ ড় য ন্ত্র 
ওবেলাঃ কনীনিকা, আপনার মধ্যে ষড়রিপুর কোনটার প্রাধান্য বেশি? কনীনিকাঃ অতিরিক্ত মোহ (হাসি)! সুদীপ্তাঃ আমার লোভ আছে। ভাল ব্যবহারের লোভ।
মানুষের কাছ থেকে ভাল ব্যবহার পেতে চাই। কেউ যদি গন্ডগোল করে, আমার খারাপ দিকটা দেখিয়ে দিই! ওবেলাঃ তখন ক্রোধ রিপুর
প্রাধান্য বেড়ে যায় বলছেন? সুদীপ্তাঃ ঠিক তাই! কনীনিকাঃ রিপু হিসেবে কামের কথা বাদ দিলে চলবে না কিন্তু! সুদীপ্তাঃ কাম তো
আছেই। কিন্তু ওটা কোনও দিনই আমার ক্ষেত্রে ওভার দ্য টপ যায়নি! ক্রোধটাই ভয়ঙ্কর। আগে আরও বেশি ছিল। এখন একটু কমেছে।
কনীনিকাঃ (হাসি) জীবন থেকে মোহটা কমাতে পারলাম না! মোহের কবলে পড়ে মাঝে মধ্যে এতটাই বদলে যাই, যে আয়নায় তাকিয়ে মনে
হয় - 'এটা আমি'? ওবেলাঃ মোহের কি বিশেষ কোনও গতিপথ আছে? কনীনিকাঃ না, না। চকোলেট হতে পারে, আবার প্রেমও। আমার
জীবনে প্রেম আসা মানে তো কালবৈশাখীর ঝড় ওঠা। সব উথাল-পাথাল (হাসি)! ওবেলাঃ সেই ঝড় তো উঠেছে বলে শোনা যাচ্ছে? কনীনিকাঃ
সম্পর্কে আছি, এটা সত্যি। কিন্তু সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাইছি না। বরং 'ষড়রিপু' নিয়ে ইন্টারেস্টিং কিছু বললে ভাল হয়
না কি (জোর হাসি)! ওবেলাঃ বেশ বলুন! কনীনিকাঃ আমাকে দেখে যেমন একটু বোকা, কিছুই বোঝে না টাইপ লাগে - অথচ
আমি সবই বুঝতে পারি! আমার চরিত্রটা আসলে সে রকমই। অয়নদা এটা বেশ ভালই বুঝতে পেরেছিল (হাসি)! ওবেলাঃ সুদীপ্তা, ছবিতে আপনার
লুকটা বেশ অন্য রকম...। সুদীপ্তাঃ অন্য রকম কী বলছেন! বেশ গোলমেলে! ওয়াইল্ড! সেটার কৃতিত্ব অয়নের। এ রকম চরিত্রে আমাকে আগে
দেখা যায়নি। বহ্নির মতো চরিত্র বাস্তবে আমি দেখিওনি। বেশির ভাগ সময়ে নেশাগ্রস্ত থাকে। 'ষড়রিপু'র বেশ কয়েকটা রিপুর প্রভাব তার মধ্যে
অধিক মাত্রায়। ওবেলাঃ এই ছবিটা করার সময়েই তো জানতে পেরেছিলেন, যে মা হতে চলেছেন? সুদীপ্তাঃ হ্যাঁ। বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
ছবি যেদিন শুরু হবে, সেদিনই বুঝতে পারলাম। আর এদিকে আমার চরিত্রটা এত ওয়াইল্ড যে, মেয়েটা সারাক্ষণ লাফালাফি করে! স্মোক করে।
সব রকমের নেশা করে। সামলাব কী করে সেটা ভেবেই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম! তারপর অয়নকে ডেকে জিনিসটা বলি। আমার বিপরীতে ইন্দ্রনীল (সেনগুপ্ত)
রয়েছে। ওকেও বললাম। তবে কোনও বিপত্তি হয়নি, সবটাই ঠিকঠাক হয়েছে। ওবেলাঃ আপনি একটু আগে বলছিলেন, অনেক নতুন পরিচালকের সঙ্গে কাজ
করেছেন, যাঁরা নিজেদের দ্বিতীয় ছবিতে আপনাকে কাস্ট করেননি...। সুদীপ্তাঃ ওটা মজা করে বলছিলাম। অয়ন নিশ্চয়ই আমাকে নেবে (হাসি)! আসলে, নতুনদের
সঙ্গে কাজ করার কিছু সুবিধে আছে। ওদের কোনও ব্যাগেজ থাকে না। স্বপ্নপূরণের চ্যালেঞ্জটা নিয়ে কাজ করে। কমলেশ্বরদা'র (মুখোপাধ্যায়) প্রথম ছবি,
অদিতি রায়ের 'অবশেষে', অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের 'ওপেন টি বায়োস্কোপ'এ কাজ করেছি। নতুনদের সঙ্গে কাজ করতেও স্বচ্ছন্দ। ভীষণ বড় পরিচালক, নামী প্রযোজক
- এসব হলে আমি হালকা গুটিয়ে যাই! যদিও বড় পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছি। অয়ন নতুন হলেও একেবারে 'কুল'। কনীনিকাঃ অয়নদা'র
ভিশনটা একেবারে পরিষ্কার ছিল। চিত্রনাট্য পড়ার সময় আমি যে ছবিটা দেখতে পাচ্ছিলাম, ফ্লোরে এসেও সেটাই দেখলাম। ওবেলাঃ নতুনদের সঙ্গে কাজ
করার তো একটা ঝুঁকি থাকে। সুদীপ্তাঃ এখনকার দিনে প্রচারটা একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুনদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা বেশি। যে কারণে
গত বছর আমি অনেক নতুন পরিচালকের ছবিই ছেড়েছি। যদিও এর একটা শারীরিক কারণ ছিল। আমরা যার ছবিই করি না কেন,
নিজের ১০০ শতাংশই দিই। পরিচালক মৃণাল সেনই হোন বা আর কেউ। তবে ঝুঁকির কথাটাও অস্বীকার করা যায় না। কনীনিকাঃ পাবলিসিটি
এখন সবকিছুতেই। কেউ বেড়াতে গেলেও ফেসবুকের মাধ্যমে পোস্ট করে সকলকে জানিয়ে দিতে চাইছে। তাহলে একটা সিনেমা রিলিজ করতে গেলে কতটা
পাবলিসিটি প্রয়োজন ভাবুন। বেশি সংখ্যক লোকের কাছে পৌঁছে যেতে না পারলে মুশকিল আছে। কিছু প্রযোজনা সংস্থা আটঘাট বেঁধেই নামে। সকলে
সেটা পারে না। সুদীপ্তাঃ যখন বুঝতে পারি এই ছবির লোকজন সিরিয়াস নয়, তখন কাটিয়ে দিতে চেষ্টা করি। আমি খাটলাম, অথচ
কাজটা কেউ দেখতে পেল না সেটা অবশ্যই চাইব না। ওবেলাঃ হাতে গোনা কয়েকটা ছবি চলেছে এ বছর। গত বছরও একই
পরিস্থিতি ছিল। এক্ষেত্রে অভিনেত্রী হিসেবে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন? সুদীপ্তাঃ এখানে অভিনেত্রীদের কিছু করার নেই। পুরো হযবরল হয়ে আছে ব্যাপারটা! কনটেন্ট
বলছে, ভাল অভিনেতা চাই। অভিনেতা বলছে, ভাল পরিচালক। আবার পরিচালক চাইছে, ভাল প্রচার। শেষ পর্যন্ত গিয়ে কোনটা কাজে আসছে বা
আসছে না, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না! হিসেবটা মিলছে না। মিলে গেলে আর কোনও ছবিই ফ্লপ হবে না। তবে একটা জিনিস
মনে হয়, কিছু ছবি বিশাল টাকা খরচ করছে অথচ ব্যবসা করতে পারছে না। আর এদিকে কিছু প্রতিভাবান পরিচালক টাকার জন্য
কাজ করতে পারছেন না। বড়দা, মেজদা'দের মধ্যে একটা দাদাগিরি চলছে বলে ছোড়দারা কিছুতেই জায়গাটা পাচ্ছে না! ওবেলাঃ বড়দা, মেজদাদের কোনও
রিমেক ছবিতে আপনাদের দেখা যায় না কেন? কনীনিকাঃ আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। করিনি। সুদীপ্তাঃ রিমেকে কাজ করতে আমার কোনও আপত্তি
নেই। ভাল চরিত্র হলে নিশ্চয়ই করব। স্ক্রিপ্ট শুনে ঠিক করি কোনটা করব, কোনটা করব না। কেরিয়ারের শুরুর দিকে কিছু প্রস্তাব
এসেছিল, অমুকের বোনের চরিত্র। সেই বোন কী করে, সেটা আর কেউ বলতে পারত না। শুধুই অমুকের বোন। এই পরিচয়টুকুই নাকি
যথেষ্ট! দেবের মা, প্রসেনজিতের বোন, ঋতুপর্ণার বান্ধবী - এই জাতীয় প্রস্তাব আর কী! 'ওপেন টি বায়োস্কোপ'এ আমি ফোয়ারার মা। কিন্তু
সেখানে আমার জন্য একটা বড় পরিসর রয়েছে। গল্পে যদি আমার কিছু করার না থাকে, শুধু শো-পিস চরিত্র করতে পারব না!
ওবেলাঃ ভাল অভিনেত্রী হিসেবে আপনাদের সুনাম রয়েছে। কখনও মনে হয়নি, সেটার সদ্বযবহার করল না টলিউড? কনীনিকাঃ জানি না! হয়তো ভবিষ্যতে
সে রকম কোনও চরিত্র আসবে। আশায় আছি। সুদীপ্তাঃ এই কথাটা এখনই বলতে চাই না। আরও অনেকদিন তো অভিনয় করব। আমিও
তাই আশায় আছি। 