Journal article Open Access

সাক্ষাৎকার - পদ্মশ্রী নিরঞ্জন গোস্বামী / Interview of Niranjan Goswami

Prof. Sreetanwi Chakraborty

মূকাভিনয়ের জগতে পদ্মশ্রীপ্রাপক শ্রী নিরঞ্জন গোস্বামী সুবিদিত নাম। ১৯৬৬–১৯৬৯ ‘‌পদাবলী’‌গ্রূপে গুরু যোগেশ দত্তর কাছে অনুশীলন করেছেন এবং এরপর ১৯৭০–১৯৭৫ দীর্ঘ ৫ বছর ‘‌বহুরূপী’‌তে অভিনয় করেছেন শম্ভু মিত্রর অধীনে। ওই একই সময়ে তিনি নাচেরও তালিম নেন গুরু সুরেশ দত্তর কাছে। তিনি মনে করেন নাচ, গান এবং অভিনয় শিল্পকলা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, সেজন্যে তাল, লয় এবং ছন্দের ব্যবহারও শেখেন গোপাল চ্যাটার্জির কাছে। ১৯৭৬ সালে ‌ইন্ডিয়ান মাইম থিয়েটার‌প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁরই অধীনে এবং বর্তমানে ভারতের নানান জেলা, প্রদেশ, দেশ এবং বিদেশে ইন্ডিয়ান মাইম থিয়েটার মূকাভিনয় করে চলেছে। ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের দ্বারা স্বীকৃত অতিথি অধ্যাপক হিসেবে ২০০০–২০১০ পারফর্মিং আর্টস পড়ান মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বি এ এম ইউনিভার্সিটিতে। উনি মূকাভিনয়কে শুধু যে একটি উৎকৃষ্ট শিল্প হিসেবে উপস্থাপনা করে চলেছেন নিরন্তর শুধু তাই নয়, বরং নানা সেমিনার, মূকাভিনয় সম্মেলন, কর্মশালার মাধ্যমে দেশের নানা প্রান্ত থেকে খুঁজে এনেছেন বিস্ময়কর সব প্রতিভা। এ ছাড়াও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং কোর্স করিয়েছেন বিভিন্ন কলেজ, প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাট্য অ্যাকাডেমিতে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এফ টি আই আই (পুণে), ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা, সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি, NCERT (নিউ দিল্লি), পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, চণ্ডীগড় আর মধ্যপ্রদেশের বেশ কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়াও তিনি শিশুদের জন্যে চিলড্রেন মাইম থিয়েটার ওয়ার্কশপ আর চিলড্রেন অ্যান্ড এডোলেসেন্ট থিয়েটার ওয়ার্কশপ করিয়েছেন বহুবার এবং বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্যেও কাজ করেছেন মূকাভিনয়ের মাধ্যমে। এ ছাড়াও মাইসোর ‘‌রঙ্গায়ন’‌, ভোপালের ভারত ভবন আর মুম্বইয়ের ‘‌আবিষ্কার’‌থিয়েটার গ্রুপেও তিনি কর্মশালা করিয়েছেন। ২০০৯–এ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মশ্রী পাওয়া ছাড়াও পেয়েছেন আরও বহু পুরস্কার এবং সম্মান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ICA পুরস্কার (১৯৮১), ভারতীয় সরকারের জুনিয়র ফেলোশিপ (১৯৮৯), ড্রামা অ্যাকাডেমি ইন্ডিয়া পুরস্কার (১৯৯৬), পাটলিপুত্র পুরস্কার (২০০৪), সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার (২০০৩), ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার পুরস্কার (২০০৭), অথেক চেস্টা সম্মান (২০১৭) প্রভৃতি। ন্যাশনাল কালচারাল ক্যাম্পের উদ্ভাবনের চিন্তা প্রথম তাঁর মাথাতেই আসে এবং সেই ক্যাম্পের দ্বারা জাতীয় সংহতির বিষয়টি তুলে ধরার ব্যাপারটিও তাঁরই অনুপ্রেরণায় হয়। উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি তাঁর ওপর ডকুমেন্টেশন করেছে। এ ছাড়াও তিনি গবেষণা এবং অনুসন্ধানের কাজে লেগে থাকেন এবং খুঁজে আনেন মূকাভিনয় এবং নাটকের নানান দিক। বেশ কিছু কমিটির সম্মানীয় সদস্য তিনি। ইউরোপিয়ান বা ইংরেজি প্যান্টোমাইমের অনুকরণ না করে তিনি নিজের ঘরানাতেই জন্ম দিয়েছেন একদম অন্যরকম এক ভারতীয় মূকাভিনয় শৈলীর। তাঁর বেশ কিছু আলোচিত এবং অভিনীত মূকাভিনয়গুলির মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হল ‘‌সোনার গাঁয়ের মেয়ে’‌, ‘‌সুখের চাবি’‌, ‘‌মেসবাড়ি’‌, ‘‌মঞ্জুলিকা’‌, ‘‌ইচ্ছেপূরণ’‌, ‘‌ছীনাথ বহুরূপী’‌, ‘‌বীজ’‌, ‘‌কমলা’‌‌, ‘‌স্বদেশিকতা’‌, ‘‌মা লক্ষ্মী পুতুলনাচ পার্টি’‌, ‘‌সোমরসিক নিরু গেঁাসাই‘‌, ‘‌গোয়েন্দা নিরু গেঁাসাই‘‌এবং ‘‌নষ্ট’‌। ইন্ডিয়ান মাইম থিয়েটার ২০১৯–এ ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাইম ফেস্টিভাল করেছিল কলকাতায়, যেখানে মেক্সিকো, জার্মানি, তুর্কি, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, জাপান থেকে শিল্পীরা অভিনয় করতে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি কলকাতায় থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও এক কন্যা তাঁর সবসময়ের প্রেরণা। লিট্ইনফিনিট নাটক সংখ্যার জন্যে লিট্ইনফিনিটের পক্ষ থেকে তাঁর সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুপ্রিয় এবং শ্রীতন্বী চক্রবর্তী।

Files (314.3 kB)
Name Size
niranjan-converted.pdf
md5:c76d1154033d7d7c09951f2872edebfe
314.3 kB Download
2
1
views
downloads
All versions This version
Views 22
Downloads 11
Data volume 314.3 kB314.3 kB
Unique views 22
Unique downloads 11

Share

Cite as